রামকৃষ্ণ সেতুর জেরে চরম ভোগান্তি! আরামবাগে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘটে ৩ গুণ ভাড়া হাঁকাচ্ছে টোটো-অটো

দীর্ঘ দু’মাসের বেশি সময় ধরে রামকৃষ্ণ সেতু (Ramakrishna Setu) দিয়ে বাস চলাচলে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বুধবার থেকে আরামবাগে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন বাসমালিক সংগঠন। এর জেরে চরম যাত্রী ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবারও বাস চলাচল বন্ধ থাকছে, ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেন এই ধর্মঘট?
গত ৯ আগস্ট রাতে আরামবাগের রামকৃষ্ণ সেতুর গার্ডওয়ালের একাংশ ভেঙে যাওয়ার পর প্রশাসন এই সেতুর উপর দিয়ে যাত্রীবাহী বাস এবং মালবাহী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে। ব্রিজের দু’ধারে হাইট বার বসানো হয়েছে। বাসমালিকদের অভিযোগ, পুজোর আগে স্বাভাবিক যান চলাচলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনও ব্রিজ সংস্কারের কাজ শেষ হয়নি।

বাসমালিকদের দাবি, সেতু বন্ধ থাকায় কাটা সার্ভিসের (Cut Service) জেরে তাঁদের বাস ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে। ক্ষতি এড়াতে হাইটবারের উচ্চতা বাড়িয়ে অন্তত বাস চলাচলের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই অনুমতি না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

আকাশছোঁয়া ভাড়া, ভোগান্তির শিকার যাত্রী
বাস ধর্মঘটের ফলে বিভিন্ন রুটের প্রায় পাঁচ শতাধিক বেসরকারি বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড এদিন সকাল থেকেই ছিল কার্যত ফাঁকা। কালীপুরের অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ডেও কিছু বাস দাঁড়িয়ে থাকলেও যাত্রী ওঠানামা করেনি।

এই সুযোগে টোটো, অটো এবং অন্যান্য প্রাইভেট কারগুলি যাত্রীদের থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া হাঁকাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চরম ভোগান্তি সত্ত্বেও বহু নিত্যযাত্রী বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে পৌঁছচ্ছেন। অনেকে আবার কর্মস্থলে যেতে বাইক নিয়ে বেরিয়েছেন।

তবে প্রশাসন, পরিবহণ দপ্তর ও পূর্তদপ্তরের সঙ্গে বাসমালিক সংগঠনের বৈঠকের কথা থাকলেও, এই দুর্ভোগ কবে কাটবে, সেই নিশ্চয়তা এখনও মেলেনি।