রান্নাঘরের খরচ কমাতে মোদী সরকারের ‘ভূ-রাজনৈতিক চাল’! আমেরিকা থেকে এলপিজি আমদানিতে ঐতিহাসিক চুক্তি, দাম কি কমবে?

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপানো ৫০ শতাংশ শুল্কের ধাক্কা এবং চরম ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে এক কৌশলগত পদক্ষেপ নিল ভারত। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সোমবার ঘোষণা করেছেন, আগামী এক বছরের জন্য আমেরিকা থেকে প্রায় ২২ লক্ষ টন লিক্যুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) আমদানি করা হবে। এটি দেশের বার্ষিক মোট আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ।
ভূ-রাজনীতিতে গ্যাসের চাল
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির নেপথ্যে রয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ভারসাম্য বজায় রাখার চাপ। গত অগাস্টে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি না কমানোয় ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের উপর একতরফা ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল। এর ফলে বস্ত্র, রত্ন, ও সি-ফুডের মতো রপ্তানি শিল্প সংকটে পড়ে।
চলতি অর্থবর্ষে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমে ১৪৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা নিয়ে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প প্রশাসন। এই শুল্কের বোঝা ৫০ শতাংশ থেকে ১৫-১৬ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য মোদী সরকারের হাতে প্রধান অস্ত্র ছিল শক্তি আমদানিতে ছাড় দেওয়া। মার্কিন তেল ও গ্যাস কেনা বাড়িয়ে সেই কৌশলই প্রয়োগ করল দিল্লি।
রান্নার গ্যাসের দাম কি কমবে?
ভারতের এলপিজি চাহিদার ৬০ শতাংশের বেশি আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। এতদিন এর মূল ভরসা ছিল পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি। এখন একাধিক আমেরিকান সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় আমদানির উৎস বৈচিত্র্যপূর্ণ হলো।
মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বলেছেন, “দেশের মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজি সরবরাহ সুনিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” আমদানির একাধিক উৎস থাকায় ভারতের এখন আন্তর্জাতিক দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়বে। তাই সরাসরি দাম না কমলেও, আগামী দিনে আপনার রান্নার গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে আসার একটা বড় আশা তৈরি হলো। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তথাকথিত ‘বন্ধু’ দেশের সঙ্গেও যে কৌশলগত পেশি-শক্তির খেলা চলে, ভারতের এই পদক্ষেপ তা প্রমাণ করল।