উত্তরবঙ্গ বেহাল, চা বাগান ধ্বংস! ‘চা পর্যটন’ নামে TMC-র ঘনিষ্ঠদের জমি বিলি—বিস্ফোরক অভিযোগ রাজ্য বিজেপি সভাপতির!

পশ্চিমবঙ্গের চা বাগান, কৃষি পরিকাঠামো এবং সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে তিনি রাজ্যের একাধিক ক্ষেত্রে ‘পরিকল্পনাহীনতা’ এবং ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ তুলেছেন।
চা বাগান: ‘চা পর্যটন’-এর নামে ঘনিষ্ঠদের জমি বিলি! চা বাগান প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের আগে পরিকল্পনা ছাড়াই আটটি বাগান খুলে দিয়েছিলেন—যা তিন পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত ছিল। পরে ‘চা পর্যটন’-এর নামে বাগানগুলিকে শাসক দলের ঘনিষ্ঠদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।” চা বাগান ও ফুলচাষের এলাকায় পর্যাপ্ত প্রতিষেধক ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের অভাবে সাপের কামড়ে অনেক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কৃষি ও অবৈধ খনন: উত্তরবঙ্গের কৃষি পরিকাঠামোর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, আম ও অন্যান্য পচনশীল পণ্যের জন্য পর্যাপ্ত হিমঘর না থাকায় কৃষকদের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, উত্তরবঙ্গের বন্যায় ভেসে আসা গাছের গুঁড়ি প্রমাণ করে অবৈধভাবে গাছ কাটা হচ্ছে। নদী থেকে অবৈধ বালি খননের ফলে নদীর গতিপথ বদলানোর অভিযোগও করেন তিনি।
ধানকল বন্ধ করে আবাসন ষড়যন্ত্র রাজ্যের সেচ পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে শমীকবাবু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সেচযোগ্য জমি মাত্র ৫৯.২১ শতাংশ, যেখানে উত্তরপ্রদেশ (৮৭%) এবং হরিয়ানার (৯৩%) মতো রাজ্যের থেকে অনেক পিছিয়ে।” সবথেকে গুরুতর অভিযোগটি আসে বর্ধমান প্রসঙ্গে। তিনি জানান, “বর্ধমান জেলায় গত দু-তিন বছরে প্রায় একশোটি ধানকল বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যমান ধানকলগুলোর জমিতে আবাসন তৈরির পরিকল্পনা চলছে—যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অবৈধ দখলের অংশ।” সামগ্রিকভাবে রাজ্যের ‘বেহাল’ অবস্থার জন্য তৃণমূল সরকারের অপরিকল্পিত নীতিকেই দায়ী করেছেন বিজেপি সভাপতি।