‘বোমা-বন্দুক’ মন্তব্যে চরম সংঘাত, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় থানায় অভিযোগ রাজ্যপাল বোসের

রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে সংঘাত এবার চরমে। রাজভবনের অন্দরে ‘বোমা-বন্দুক’ মজুত রাখার বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করল রাজভবন। মঙ্গলবার রাজভবন সূত্রে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

শনিবার চুঁচুড়ার এক সভা থেকে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, রাজ্যপাল নাকি বিজেপির ‘ক্রিমিনালদের’ রাজভবনে ঠাঁই দিচ্ছেন এবং তাদের হাতে বোমা-বন্দুক তুলে দিয়ে তৃণমূলকে মারতে বলছেন। এরপরেই রাজভবন সোমবার বম্ব স্কোয়াড ও পুলিশ ডেকে তল্লাশি চালায় এবং সাংসদের দাবিকে ‘ভুয়ো’ বলে আখ্যা দেয়। এরপরই আজ রাজভবনের তরফে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হল।

কল্যাণের বিরুদ্ধে কোন কোন ধারা? রাজভবন সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বি এন এস)-এর একাধিক গুরুতর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে:

  • সশস্ত্র বিদ্রোহে উস্কানি: বি এন এস-এর ১৫১ এবং ১৫২ ধারা।

  • সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ: ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৭ ধারা।

  • সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট: বি এন এস-এর ১৯৬-এর ১ (এ) ধারা।

  • জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি: বি এন এস-এর ১৫৩ ১ (বি), ১৫৩ ১(সি) এবং ১৫৩ (২) ধারা।

“আইন আমি বেশি বুঝি, থার্ড গ্রেডেড লোক” তবে রাজভবনের এই পদক্ষেপেও দমতে নারাজ শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। TV9 বাংলাকে তিনি বলেন, “একটা চিঠি দেওয়া মানেই এফআইআর নয়। আইন আমি সিভি আনন্দ বোসের থেকে বেশি বুঝি। ধারা ছাড়ুন, সিভি আনন্দ বোসকে ছাড়ব নাকি আমি? ও যা ইচ্ছা করুক। ওই রকম হাজারটা সিভি আনন্দ বোস দেখছি। ফালতু লোক, থার্ড গ্রেডেড লোক। আবার বলছি থার্ড গ্রেডেড লোক।” তিনি আরও দাবি করেন, উস্কানিমূলক কথা রাজ্যপাল নিজেই বলেছেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধেই সব ধারা প্রয়োগ করা উচিত।

গতকাল বম্ব স্কোয়াডের তল্লাশির পর রাজ্যপাল হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ভুয়ো অভিযোগ করলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারই প্রতিফলন দেখা গেল আজকের থানায় অভিযোগে।