২২,০০০ কোটি টাকার ঋণ জালে ফেঁসেছেন এসেল গ্রুপের বস! সুভাষ চন্দ্রের মামলার ফয়সালায় এনসিএলটির বড় পদক্ষেপ

এসেল গ্রুপের চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্রের দেউলিয়া কার্যক্রম সংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (NCLT) একটি বিশেষ পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ গঠন করেছে। পূর্ববর্তী শুনানিতে বিচারক ও সদস্যরা তাঁর ৬.২৫ কোটি টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন গঠিত এই পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ মঙ্গলবার সকাল ১০:১৫ মিনিটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার শুনানি শুরু করবে।
মামলার নেপথ্যের জট ও বিতর্ক: এর আগে এনসিএলটি-র দুই সদস্যের বেঞ্চে বিচার বিভাগীয় সদস্য অশোক কুমার ভরদ্বাজ এবং কারিগরি সদস্য রীনা সিনহা পুরী ছিলেন, যাঁদের মতামত ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর। বিচারক অশোক কুমার ভরদ্বাজ সুভাষ চন্দ্রের ৬.২৫ কোটি টাকা পরিশোধের পরিকল্পনাটি অনুমোদন করলেও জানিয়েছিলেন যে এটি কেবল সেইসব ঋণদাতাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে যাঁরা এর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। পক্ষান্তরে, রীনা সিনহা পুরী দেউলিয়া প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ এনে পুরো পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেন এবং ভোটাভুটিতে সুভাষ চন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত কিছু সংস্থার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন।
দুই সদস্যের এই মতপার্থক্য নিরসনের জন্য পরবর্তীতে বিষয়টি তৃতীয় সদস্য নীলেশ শর্মার কাছে পাঠানো হয়। শর্মা পরিশোধ পরিকল্পনাটি অনুমোদন করলেও তাঁর যুক্তি ছিল ভিন্ন—তিনি মত দেন যে কোনো পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে তা সকল ঋণদাতার জন্যই প্রযোজ্য হওয়া উচিত, তাঁরা পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দিন না কেন। এভাবে তিনটি ভিন্ন মতামতের উদ্ভব হওয়ায় কোনো একক সিদ্ধান্তের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
পুরো হিসাব ও মামলার প্রেক্ষাপট: সুভাষ চন্দ্র তাঁর স্বীকৃত পাওনার বিপরীতে ৬.২৫ কোটি টাকা (প্রায় ২২,০০৬ কোটি টাকা) পরিশোধের একটি পরিকল্পনা জমা দিয়েছিলেন। এই বিপুল পরিমাণ পাওনা মূলত সেই সমস্ত ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেগুলোর জন্য চন্দ্র বিভিন্ন কোম্পানির পক্ষে ব্যক্তিগত গ্যারান্টি প্রদান করেছিলেন। এখন এই ত্রিমুখী মতপার্থক্যের জট কাটাতেই পাঁচ সদস্যের একটি বর্ধিত বেঞ্চ পুরো বিষয়টি নতুন করে পুনর্বিবেচনা করবে। করপোরেট মহলের নজর এখন এই মেগা মামলার আগামী শুনানির দিকেই।