রাজ্য বিধানসভায় নতুন যুগের সূচনা, প্রথম অধিবেশনেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর আজ থেকে শুরু হলো ১৮তম বিধানসভার ঐতিহাসিক প্রথম অধিবেশন। জাতীয় সংগীত ‘বন্দেমাতরম’-এর সুরে মুখরিত বিধানসভা কক্ষে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিট নাগাদ বিধানসভায় পৌঁছান রাজ্যপাল আর এন রবি এবং রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদানের মাধ্যমে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পর তাঁরা প্রবেশ করেন অধিবেশন কক্ষে। রাজ্যপালের প্রারম্ভিক ভাষণের মাধ্যমেই শুরু হয় এদিনের অধিবেশন।

রাজ্যপালের বক্তৃতায় নতুন সরকারের রূপরেখা ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। রাজ্যপাল জানান, জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক সুরক্ষাই তাঁদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বিগত দিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তোলাবাজি নির্মূলে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষিত করতে অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি জমি দখলমুক্ত করার বিষয়টিও অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে।

বক্তৃতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রয়োগ। রাজ্যপাল জানান, সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ২০২৭ সালের জনগণনা নিয়ে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাজ্যের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন ও সুবিধাজনক কৃষি নীতি প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

কার্য উপদেষ্টা কমিটির দীর্ঘ বৈঠকের পর অধিবেশনের সময়সীমা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আপাতত আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত চলবে এই অধিবেশন। এরপর ৬ জুলাই থেকে পুনরায় অধিবেশন শুরু হবে। সব মহলের নজর এখন আগামী সোমবারের দিকে, কারণ সেদিন ঠিক বেলা ১২টায় বিধানসভার কক্ষে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বার্ষিক বাজেট পেশ করবেন। নতুন সরকারের প্রথম এই বাজেট রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কোন দিশা দেখায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আপামর পশ্চিমবঙ্গবাসী। ২৩ ও ২৪ জুন রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনা ও সাধারণ বাজেটের ওপর বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে।