রাজ্যে মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির পরেই বিরাট ধামাকা! রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন গঠনে বড় ঘোষণা!

রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক জনকল্যাণমুখী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে বর্তমান সরকার। গৃহবধূ থেকে শুরু করে বেকার যুবক এবং সাধারণ রাজ্যবাসীর জন্য বিভিন্ন আর্থিক ভাতার বন্দোবস্ত করার পাশাপাশি এবার রাজ্য সরকারি কর্মীদের মুখে চওড়া হাসি ফোটাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। কিছুদিন আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করেছিল সরকার। আর সেই খুশির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে গঠিত হয়ে গেল সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission)। নবান্নের তরফে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই কমিশন গঠনের অনুমোদন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
বুধবার রাজ্যপাল আর এন রবির অনুমোদনক্রমে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তথা কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের প্রাক্তন সচিব এবং অবসরপ্রাপ্ত আইএএস (IAS) অফিসার অতনু চক্রবর্তীকে। এছাড়া কমিশনের অন্যান্যা সম্মানিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র গবেষক পার্থ মুখোপাধ্যায় এবং আইআইএম (IIM) কলকাতার বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ পার্থপ্রতিম পাল। অন্যদিকে, এই পুরো প্রক্রিয়ার প্রশাসনিক দিকটি দেখভালের জন্য কমিশনের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের সচিব তথা আইএএস দেবীপ্রসাদ কারাণমের ওপর। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব প্রভাতকুমার মিশ্রের স্বাক্ষরেই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনর্গঠন এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে দ্রুত সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই প্রশাসনের তরফে প্রাথমিক খসড়া এবং ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ বা কাজের পরিধি প্রস্তুত করার কাজ শুরু হয়েছিল। বুধবার সেই সমস্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পরেই নবান্নের তরফে এই নতুন বেতন কমিশন গঠনের চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেওয়া হয়। সরকারের এই সাহসী ও কল্যাণকর পদক্ষেপে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। খুব শীঘ্রই কমিশন তাদের নির্ধারিত কাজ শুরু করবে এবং রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত যাবতীয় সুপারিশ পেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।