রাজভবনে বোমা-বন্দুক! বিস্ফোরক অভিযোগের পরই বড় পদক্ষেপ রাজ্যপালের, শুভেন্দুর চরম কটাক্ষ

তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে রাজভবনের অভ্যন্তরে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কলকাতা পুলিশের যৌথ অংশগ্রহণে এই সার্চ অপারেশন চালানো হয়। এই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এই ইস্যুতে এবার সরাসরি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘রাজ্যপাল একজন পাঁড় মাতালকে (কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইঙ্গিত করে) সিরিয়াসলি নিয়ে ফেলেছেন, এটা অত্যন্ত লজ্জার।’
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, রাজ্যপাল এমন একটি গুরুতর অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েছেন, যার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি মন্তব্য করেন, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তল্লাশি চালানো কার্যত ‘মহাসর্বনাশের’ সমান। বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মানুষ প্রায়শই বেফাঁস মন্তব্য করেন। কিন্তু রাজ্যপাল সেই মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে যে পদক্ষেপ নিলেন, তা বাংলার ইতিহাসে নজিরবিহীন এবং ‘লজ্জাজনক’।
তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, রাজভবনের ভেতরে নাকি বেআইনিভাবে বন্দুক ও বোমা মজুত করা আছে। তাঁর এই অভিযোগের পরই রাজ্যপাল নিজ উদ্যোগে এই সার্চ অপারেশনের নির্দেশ দেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণত রাজভবনের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকে, কিন্তু কলকাতা পুলিশকে তল্লাশির জন্য নিযুক্ত করার ঘটনা কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
যদিও তল্লাশি অভিযানে রাজভবনের ভেতর থেকে কোনো আপত্তিকর সামগ্রী বা বিস্ফোরক পাওয়া গিয়েছে কিনা, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্কের পারদ এখন তুঙ্গে।