বিহার ভোটে ধুন্ধুমার কাণ্ড! ‘বিশ্বব্যাঙ্কের ১৪ হাজার কোটি টাকায় ভোট কেনা হয়েছে’, ভরাডুবির পরও বিস্ফোরক পিকে

বিহার নির্বাচনে ভরাডুবির পর নিজের ব্যর্থতার দায় সম্পূর্ণ নিজের কাঁধে তুলে নিলেন ভোট কৌশলী থেকে রাজনৈতিক নেতা বনে যাওয়া প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। তাঁর দল জন সুরাজ পার্টি ২৩৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েও একটিও আসন জিততে পারেনি, যা ছিল পিকের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রথম বড় পরীক্ষা। দলের ঝুলিতে ভোট গিয়েছে মাত্র ৩.৪৪ শতাংশ, এমনকি ৬৮টি আসনে তারা নোটাকেও টপকাতে পারেনি।

শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে পিকে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা সৎভাবে চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রচেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ। জনগণ আমাদের সমর্থন দেয়নি, তার দায় ১০০ শতাংশ আমার।” তিনি স্বীকার করেন যে ভোটারদের কাছে ‘নতুন রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা’ বোঝাতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। এই ব্যর্থতার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে আগামী ২০ নভেম্বর মহাত্মা গান্ধীর জন্মস্থান ভিটিহারওয়া আশ্রমে তিনি একদিন নীরব উপবাসে বসবেন।

১৪ হাজার কোটির ভোট কেনার অভিযোগ: এই চরম ব্যর্থতার মধ্যেও কিশোর নীতীশ কুমারের জেডিইউ-এর বিজয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি ফের দাবি করেন, মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার করে না দিলে জেডিইউ-এর আসন সংখ্যা ২৫-এর গণ্ডিও পার হতো না। জন সুরাজ দলের অভিযোগ, বিশ্বব্যাঙ্কের উন্নয়নমূলক ঋণের ১৪ হাজার কোটি টাকা নির্বাচনের ঠিক আগে ১.২৫ কোটি মহিলা ভোটারের অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে—যা ছিল ‘ভোট কেনার স্পষ্ট উদাহরণ’।

পিকে নীতীশ কুমারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, “আমি আজও আমার কথায় অটল। যদি নীতীশ কুমার ১.৫ কোটি মহিলাকে ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন এবং দেখাতে পারেন যে কেনা ভোটে জয় হয়নি, তা হলে আমি রাজনীতি থেকেই সরে দাঁড়াব।” তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পরাজয় সত্ত্বেও তিনি পিছিয়ে যাবেন না। বিহারকে বদলানোর অঙ্গীকার পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

এক ঝলকে বিহার ভোটের ফলাফল: | জোট | দল | আসন | | :— | :— | :— | | এনডিএ (তিন-চতুর্থাংশ) | বিজেপি | ৮৯ | | | জেডিইউ | ৮৫ | | | এলজেপি (আরভি) | ১৯ | | | হাম | ৫ | | | আরএলএম | ৪ | | মহাগঠবন্ধন (ভরাডুবি) | আরজেডি | ২৫ (আগে ৭৫) | | | কংগ্রেস | ৬ | | | অন্যান্য | ৩ | | জন সুরাজ | জন সুরাজ পার্টি | ০ (৩.৪৪%) |