বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে শনিবার। ৯ মে, রবীন্দ্রজয়ন্তীর পূণ্যলগ্নে বিগ্রেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত হচ্ছে এ রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। তবে এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের মাঝেই ভিলেন হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া। হাওয়া অফিসের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবারই কলকাতায় আছড়ে পড়তে পারে মরশুমের প্রথম জোরালো কালবৈশাখী। আর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সতর্কবার্তাই এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে গেরুয়া শিবিরের কপালে।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে বিগ্রেডকে। বৃহস্পতিবার বিকেলেই বিগ্রেড পরিদর্শন করেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠান চলাকালীন সুরক্ষায় মোতায়েন থাকবেন প্রায় ৪ হাজার পুলিশ কর্মী। গোটা বিগ্রেড চত্বরকে ৩০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকছেন ডেপুটি বা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার অফিসাররা। পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে আকাশপথে চলবে কড়া নজরদারি এবং আশেপাশের বহুতলের ছাদে মোতায়েন থাকবে দূরবীনধারী পুলিশ বাহিনী।
বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির মিশেলে সেজে উঠছে বিগ্রেড মঞ্চ। প্রবেশপথ থেকে শুরু করে চারপাশ—সবই ফুটে উঠছে নতুনত্বের ছোঁয়ায়। মঞ্চে থাকছে ৩টি হ্যাঙ্গার; মাঝের হ্যাঙ্গারে রাজ্যপাল আর.এন. রবি শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। বাঁদিকের মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দেশের প্রায় ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। অনুষ্ঠান শুরু হবে রবীন্দ্রসঙ্গীতের মূর্ছনায়। এমনকি আগত অতিথিদের জন্য থাকছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘ঝালমুড়ি ও রসগোল্লা’র বিশেষ স্টল।
তবে বিগ্রেড প্যারেড গ্রাউন্ডের এই এলাহি আয়োজন কি ধুয়ে যাবে বৃষ্টিতে? আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে ৭২ ঘণ্টার দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শনিবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। এই পরিস্থিতিতে যে কোনও রকমের জরুরি অবস্থা সামাল দিতে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। দুর্যোগ এড়াতে সব ধরণের আগাম সতর্কতা নেওয়া হলেও, প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় বিজেপির মেগা শো কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।





