রথের আগেই স্নানযাত্রা! ১০২ বছরের পুরনো প্রথা মেনেই মাতল বরাকর

সাধারণত রথযাত্রার ১৫ দিন আগেই জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা সম্পন্ন হয়। এরপর দেবতাকে ‘অসুস্থ’ ধরে নিয়ে মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখার রীতি প্রচলিত। কিন্তু আসানসোলের কুলটির বরাকরে ঘটছে ঠিক তার উল্টো! এখানে রথযাত্রার ঠিক আগের দিন সম্পন্ন হয় জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। ১০২ বছরের পুরনো এই প্রথা আজও একই উদ্দীপনায় পালন করছেন ভক্তরা।

কেন এই ব্যতিক্রমী নিয়ম? বরাকরের ঐতিহাসিক গৌরাঙ্গ মন্দিরের সেবায়েত হরেকৃষ্ণ বাবা জানান, এই মন্দিরে জগন্নাথদেবের পাশাপাশি অন্যান্য দেবদেবীর নিত্যপূজা ও ভোগের আয়োজন চলে। মন্দির দীর্ঘ ১৫ দিন বন্ধ রাখা সম্ভব নয় বলেই এখানে রথযাত্রার আগের দিন স্নানযাত্রা সম্পন্ন হয়। স্নানের রাতেই দেবতাকে রথে অধিষ্ঠিত করা হয়।

স্নানযাত্রার বিশেষত্ব: এই মন্দিরের স্নানযাত্রায় ১১২টি পবিত্র স্থানের মাটি এবং ১১২টি উৎসের জল ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রাজদরবারের মাটি থেকে শুরু করে পতিতালয়ের মাটি এবং ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থানের জল ও মাটি মিশিয়ে তৈরি হয় স্নানামৃত। সেবায়েত হরেকৃষ্ণ বাবার কথায়, এই আচার মূলত সমাজে সব মানুষের সমান মর্যাদা এবং সর্বজনীনতার বার্তা বহন করে।

ভক্তদের ঢল ও সরকারি উদ্যোগ: রথযাত্রার আগের দিনের এই বিশেষ স্নানযাত্রা দেখতে প্রতি বছরই হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমে। পশ্চিম বর্ধমান ছাড়াও বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকেও ছুটে আসেন ভক্তরা। এবছর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান পাওয়ায় উৎসবের জৌলুস আরও বেড়েছে। সরকারি সহায়তায় এবারের রথযাত্রা আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।