রণক্ষেত্র দিল্লি! পুলিশকে লক্ষ্য করে তীব্র পাথরবৃষ্টি, পরিস্থিতি সামাল দিতে নামল আধাসেনা!

দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে চলমান সর্বভারতীয় ছাত্র বিক্ষোভ ও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বুধবার গভীর রাতে এক নজিরবিহীন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দিল্লি পুলিশের শীর্ষমহল থেকে সরাসরি বিস্ফোরক অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, সাধারণ ছাত্র আন্দোলনের পবিত্র আড়ালে কিছু দুষ্কৃতী ও বহিরাগত উপাদান ইচ্ছাকৃতভাবে ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অশান্ত করে তোলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যার পর চলা এই তীব্র সংঘর্ষ ও অশান্তির জেরে বেশ কয়েকজন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত এই ভয়াবহ ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যেকোনো ধরনের বড়ো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বুধবার রাত থেকেই গোটা যন্তর মন্তর চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক পরিমাণে অতিরিক্ত আধাসেনা ও পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে গোটা এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়াকড়ি করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বিকভাবে গোয়েন্দা ও শীর্ষ কর্তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার সারাদিন ধরে যন্তর মন্তরের মূল বিক্ষোভ কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবেই পরিচালিত হচ্ছিল। আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা মঞ্চ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে কবিতা পাঠ, প্রতিবাদী স্লোগান এবং সুনির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে থেকে নিজেদের নায্য অধিকার আদায়ের বার্তার ওপরই প্রধানত জোর দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সন্ধ্যার অন্ধকার নামতেই এবং ভিড় হু হু করে বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোটা পরিবেশের চেহারা সম্পূর্ণ বদলে যেতে শুরু করে। অভিযোগ উঠেছে যে, ওই সময় হঠাৎ করেই একদল দুর্বৃত্ত ও বহিরাগত ব্যক্তি ছাত্রদের নিরাপদ আড়ালকে সুচতুরভাবে ব্যবহার করে কর্তব্যরত ইউনিফর্ম পরা পুলিশকর্মীদের সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করে ধারালো পাথর, ইঁট এবং কাঁচের বোতল ছুড়তে শুরু করে। এই হঠাৎ আক্রমণে পুরো শান্তিপূর্ণ জমায়েত মুহূর্তে অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং উচ্ছৃঙ্খল জনতা যন্তর মন্তর চত্বরের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে সরাসরি ব্যস্ত রাস্তায় বেরিয়ে এসে প্রবল তাণ্ডব চালাতে শুরু করে।

পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যার ওই ন্যাক্কারজনক পাথর ছোড়ার আকস্মিক ঘটনায় কমপক্ষে দুই জন সহকারী পুলিশ কমিশনার (ACP) এবং আরও চারজন সাধারণ পুলিশ কর্মী গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। রাতেই তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গিয়েছে যে আহত পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে। প্রথম অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটেছিল মূলত বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ। সেই সময় অত্যন্ত সংবেদনশীল পাঞ্জাবি বাগ এলাকায় কর্মরত এসিপি জয়প্রকাশ যন্তর মন্তরে বিশেষ দায়িত্ব পালন করার সময় পাথর বা অন্য কোনো বস্তুর আঘাতে কপালে গুরুতর আঘাত পান। এর কিছুক্ষণ পরেই সংঘটিত আরও একটি হিংসাত্মক ঘটনায় অন্য এক এসিপি এবং চারজন কনস্টেবল জখম হন। চরম প্ররোচনার মুখেও পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার মাইকযোগে মাইকিং করে আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার বিনীত আবেদন জানানো হয় এবং আইনশৃঙ্খলা যাতে কোনোভাবেই ভেঙে না পড়ে, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়।

দিল্লি পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের আরও দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার বা প্রশাসন এখনও পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর বা চটজলদি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়নি। ছাত্রদের মূল দাবিদাওয়া ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সমস্ত ইতিবাচক পথ খোলা রাখার স্বার্থে পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত চরম সংযম ও ধৈর্যের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে পুলিশ কর্মীরা মূলত নিজেদের আত্মরক্ষা এবং জানমাল ও শৃঙ্খলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকেই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করছেন।

অন্যদিকে, এই গোটা ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) পক্ষ থেকে উল্টো দিকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাদের জোরালো দাবি, যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এলাকার ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক সরাসরি প্রশ্ন তুলে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ করে বলেছেন যে, সরকার কি তবে আবারও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো গোপন পুলিশি অভিযান বা বলপ্রয়োগ চালানোর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিচ্ছে? সার্বিক এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন চূড়ান্ত উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।