উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেই তাক লাগাল ১৮ বছরের বিশ্বজিৎ! মাটির থালা-বাটি বিক্রি করে আজ সে সফল উদ্যোক্তা!

আজকের দিনে পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে বাঁকুড়ার বছর আঠারোর তরুণ বিশ্বজিৎ দে মোদক। हालই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর থেকেই সে কেবল বসে থাকেনি, বরং নিজের মায়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শুরু করেছে এক অভিনব মাটির তৈজসপত্রের ব্যবসা। বাঁকুড়া শহরের অত্যন্ত পরিচিত এলাকা সারদামনি কলেজের ঠিক পাশেই মা প্রতিমা দে মোদক এবং ছেলে বিশ্বজিৎ যৌথভাবে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে বিশ্বজিৎ নিজের হাতে মাটি দিয়ে নানা রঙের ও রকমারি ডিজাইনের থালা, প্লেট এবং গ্লাস তৈরি করছে। এরপর রোদে শুকিয়ে নিখুঁত হাতে তাতে সুন্দর রং করে বাজারে ন্যায্য মূল্যে তা বিক্রি করছে এই মেধাবী ছাত্র। ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে সে তৈরি করেছে স্পেশাল মাটির থালা-বাটির কম্বো সেট, যার পুরো সেটের দাম রাখা হয়েছে মাত্র ৩০০ টাকা এবং শুধুমাত্র একটি থালার দাম রাখা হয়েছে ৮০ টাকা।

বিশ্বজিতের মা প্রতিমা দে মোদক ছেলের এই উদ্যোগ ও পরিশ্রম দেখে অত্যন্ত গর্বিত। তিনি আনন্দের সঙ্গে জানান যে, তাঁর ছেলে একদিকে যেমন অত্যন্ত মন দিয়ে পড়াশোনা করে, তেমনই সংসারের সব কাজে এবং দোকানের দেখভালে তাকে পুরোপুরি সাহায্য করে। দোকানে আসা খদ্দেরদের সামলানো থেকে শুরু করে মাটির থালায় নিখুঁত রং করা—সব কাজেই সে সমান পারদর্শী। মায়ের দৃঢ় বিশ্বাস, ছাত্রাবস্থায় এইভাবে কঠোর পরিশ্রম ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলে ছেলে মানুষ হিসেবে আরও অনেক বেশি পরিণত হবে, জীবনের কাজের প্রকৃত গুরুত্ব শিখবে এবং নিজের পায়ে শক্তভাবে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি হবে। এর ফলে তার মধ্যে দায়িত্ববোধ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা তার ভবিষ্যতের পথকে আরও বেশি প্রশস্ত করবে।

দোকানে সাধারণ মাটির জিনিসপত্র ছাড়াও বাঁকুড়ার ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বজোড়া পরিচিতি টেরাকোটার ঘোড়া, কার্তিক ঠাকুরের মূর্তি সহ বিভিন্ন শৌখিন সামগ্রী মজুত রয়েছে। তবে বর্তমান শীতের মরসুমে বাঙালি গ্রাহকদের মাঝে মাটির থালা-বাটির কম্বো সেটের চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে। যাঁদের একটু খাঁটি বাঙালিয়ানা পছন্দ, তাঁরা অনায়াসেই এই ঐতিহ্যবাহী পাত্রগুলি কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বজিৎ নিজেই জানিয়েছে যে, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বর্তমানে বিভিন্ন বাঙালি রেস্তোরাঁ ও হোটেল থেকেও এই মাটির থালা-বাটির বিশাল অর্ডার আসছে এবং তারা এগুলো কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসার এই আকস্মিক ও অভাবনীয় সাফল্যের জেরে পণ্য বিক্রি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে, যার কারণে বিশ্বজিৎ এখন বেশিরভাগ সময়টাই দোকানে কাটিয়ে কাস্টমার সামলাচ্ছে।

বিশ্বজিৎ এবং তার সংগ্রামী মা যৌথভাবে সমগ্র সমাজের সামনে এক দারুণ বার্তা স্থাপন করেছেন। তারা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে জীবনে শুধুমাত্র গতানুগতিক পড়াশোনা করাটাই একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না; বরং কাজের প্রতি নিষ্ঠা থাকা, যেকোনো কাজ ছোট না ভেবে তা শেখা এবং বিপদের দিনে বাবা-মার প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়ানোই আসল সার্থকতা। বঙ্গ বিদ্যালয়ের এই কৃতি ছাত্র পড়াশোনার পাশাপাশি মায়ের দোকানে সাহচর্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এক অভিনব উপায়ে নিজেদের কর্মসংস্থান ও উপার্জন নিশ্চিত করেছে, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক দারুণ অনুপ্রেরণা।