রক্ষাকবচহীন অভিষেক, আজ কি বড় কোনো পদক্ষেপ নেবে ইডি? প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চরম নাটক

নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে আবারও নতুন মোড়। সোমবার সকাল থেকেই রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল সিজিও কমপ্লেক্সের দিকে। কারণ, প্রাথমিক দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তলবে এদিন হাজিরা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই হাজিরায় তাঁর কাছে কোনো রক্ষাকবচ ছিল না। আদালতের নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হওয়ায় জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হাই-প্রোফাইল নেতার রক্ষাকবচ ছাড়া হাজিরা দেওয়ার বিষয়টি যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী।
সকাল থেকেই ইডি দফতর ঘিরে ছিল আঁটসাঁট নিরাপত্তা। সমর্থকদের ভিড় এবং পুলিশের কড়া নজরদারির মাঝেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবনে প্রবেশ করেন। ইডি সূত্রে খবর, নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জটিল জাল কীভাবে বিন্যস্ত এবং তাতে প্রভাবশালী যোগের সূত্র কোথায়—তা খতিয়ে দেখাই আজকের জিজ্ঞাসাবাদের প্রধান লক্ষ্য। তদন্তকারীরা তাঁর কাছে গত কয়েক মাসের আর্থিক লেনদেনের হিসেব, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় বা যোগাযোগের ধরণ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য প্রমাণের বিষয়ে বিশদ জানতে চাইবেন বলে খবর।
গত কয়েক বছর ধরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে শাসক দল এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির মধ্যে যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হাজিরা সেই লড়াইকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় সংস্থা যেহেতু আজ কোনো রক্ষাকবচ ছাড়াই তাঁকে জেরা করছে, তাই যেকোনো ধরনের কড়া পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে বিজেপির ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলেই অভিহিত করা হয়েছে।
যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হবে কি না, তা নিয়ে দিনভর জল্পনা চললেও, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সরকারি ঘোষণা বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তকারী সংস্থা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইডি যদি জিজ্ঞাসাবাদের পর মনে করে যে অভিযুক্ত তদন্তে অসহযোগিতা করছেন অথবা কোনো তথ্য গোপন করছেন, তবেই তারা পরবর্তী পদক্ষেপের কথা ভাবতে পারে।
আজকের দিনটি বঙ্গ রাজনীতির জন্য অত্যন্ত উত্তেজনার। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে কর্মী-সমর্থকদের নজর এখন সিজিও কমপ্লেক্সের ভেতরের পরিস্থিতির দিকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হাজিরা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে কতখানি নতুন তথ্য উন্মোচন করে, নাকি রাজনীতির ময়দানে নতুন কোনো ইস্যু তৈরি করে, তা সময়ই বলবে। আপাতত সমস্ত জল্পনার অবসান হতে পারে তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের ঘোষণার মাধ্যমেই।