রক্তের বদলা নিলেন ট্রাম্প! ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর ভয়াবহ হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হলো নতুন করে সামরিক উত্তেজনা। গত শনিবার রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও আইআরজিসি (IRGC) বাহিনীর ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। জর্ডানে দুই মার্কিন সেনার মৃত্যুর বদলা নিতেই এই ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলা বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।

সংঘর্ষের ৮ দিন: বর্তমান পরিস্থিতি গত আট দিন ধরে চলা এই সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। জর্ডানে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। এর মধ্যে সম্প্রতি এক নৌ-পাইলটকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করায় এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে দ্বন্দ্ব বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী এখন ইরান ও আমেরিকার সরাসরি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে। ইরান এই জলপথ বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক কার্যকলাপের ওপর পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সেন্টকম জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

আরব দেশগুলোতে সতর্কতা এই অস্থির পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরব দেশগুলোতে বসবাসরত আমেরিকান নাগরিকদের জন্য উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। যেকোনো সময় পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে—এই আশঙ্কায় নাগরিকদের অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ রণকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। যদিও জর্ডানের আকাশসীমা অতিক্রম করা ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে জর্ডান কর্তৃপক্ষ, কিন্তু তেহরান এখন কীভাবে এই বিমান হামলার জবাব দেয়, তা নিয়ে পুরো বিশ্ব উদ্বিগ্ন।

বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে এবং তেহরান পাল্টা কী পদক্ষেপ নেবে, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজর।