প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাই-ভোল্টেজ সভার ঠিক আগের রাতেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল। বিজেপি প্রার্থী পবন সিংয়ের বাড়ির বাইরে চলল গুলি, জখম হলেন তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সিআইএসএফ (CISF) জওয়ান। এই ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার সকাল থেকেই এলাকায় রুট মার্চ করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্য়েই বিশদ রিপোর্ট তলব করেছে।
থানা চত্বরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত:
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাতে। জগদ্দল বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে থানায় গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূলের দুই কাউন্সিলর সৌরভ সিং ও মনোজ পাণ্ডের নেতৃত্বে একদল যুবক থানার সামনেই বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটবৃষ্টি।
গুলিবিদ্ধ জওয়ান ও অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ:
উত্তেজনা চলাকালীনই অভিযোগ ওঠে, একদল দুষ্কৃতী ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংয়ের ছেলে পবন সিংয়ের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ও গুলি ছোড়ে। সেই সময় পবনের দেহরক্ষী যোগেশ শর্মার পায়ে গুলি লাগে। বর্তমানে তিনি কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে অর্জুন সিং বলেন, “পুলিশের সামনেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমার ছেলের দেহরক্ষীকে লক্ষ্য করে গুলি চলল, অথচ পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।”
পাল্টা দাবি তৃণমূলের:
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জগদ্দল টাউন কমিটির সভাপতি দেবজ্যোতি ঘোষের দাবি, বিজেপিই প্রথমে তাদের পার্টি অফিসে হামলা চালিয়েছে এবং কর্মীদের মারধর করেছে। সেই অভিযোগ জানাতেই তাঁরা থানায় গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে অর্জুন সিংয়ের নেতৃত্বে বিজেপির লোকেরাই তাঁদের ওপর চড়াও হয়।
পুলিশি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি:
সোমবার সকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ কৌশিক দাস, সিকান্দার প্রসাদ, গোপাল রাউত ও শ্যামদেব প্রসাদ নামে চারজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। জগদ্দল থানা চত্বরসহ স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে টহল দিচ্ছে আধা-সেনা। প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে এই ধরণের হিংসাত্মক ঘটনা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।





