শপথ নেওয়ার পর দ্বিতীয় দিনের ‘জনতার দরবার’-এ আবারও সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে আজ যেন মানুষের সমস্যার এক জীবন্ত দলিল উঠে এল। কোচবিহার থেকে ভবানীপুর—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন তাঁদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার কথা তুলে ধরতে হাজির হয়েছেন।
আজকের এই কর্মসূচিতে মূলত চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিহারাদের ৯টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। তবে শুধু চাকরি নয়, সাধারণ মানুষের জমি-জমা সংক্রান্ত সমস্যাও উঠে এসেছে শুভেন্দুর সামনে। ৮১ বছরের বৃদ্ধ প্রবীর মুখোপাধ্যায়, যিনি খোদ মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুরের বিধায়কের কেন্দ্র থেকেই এসেছেন, তিনি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন জ্যৈষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। বৃদ্ধ দম্পতির অভিযোগ, তাঁদের মাথা গোঁজার ঠাঁই কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে প্রশাসনের কাছে কোনো সুরাহা না পেয়ে শেষমেশ বিরোধী দলনেতার দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, নার্সিং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুচিত্রা দে তুলে ধরেছেন এক মানবিক সংকট। অনাথদের জন্য যে সংরক্ষণের সুযোগ ছিল, বর্তমানে তা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। সুচিত্রা জানান, অনাথ হিসেবে প্রশিক্ষণ পেলেও চাকরির ক্ষেত্রে আজ তিনি চরম অবহেলিত। নিজের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পেতেই আজ জনতার দরবারে হাজির হয়েছেন তিনি।
একইভাবে ২০১৬ সালের ২৬ হাজার বঞ্চিত চাকরিহারা শিক্ষকদের প্রতিনিধি সুমন বিশ্বাস এদিন সরব হয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, দুর্নীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে যোগ্য প্রার্থীরা আজ পথে বসেছেন। যোগ্যতার ভিত্তিতে অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিনিধি মলয় সিংহ রায় জানান, গত ১৫ বছর ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্তব্ধ হয়ে আছে। স্থায়ী পদগুলিকে অস্থায়ী করে রাখার ফলে বহু শিক্ষিত যুবক আজ ভবিষ্যৎহীন।
বিজেপি দপ্তরে আজ ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। একে একে সব প্রতিনিধিদের কথা মন দিয়ে শোনেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রত্যেকটি অভিযোগ লিখিত আকারে গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, এই দরবার অন্তত তাদের কথা সরকার ও প্রশাসনের কানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। বিরোধী দলনেতার এই উদ্যোগ রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।





