‘যোগ্যতা দেখেই কাজ, রেফারেন্সের দিন শেষ!’ নন্দনের বৈঠক থেকে কড়া বার্তা বিধায়ক হিরণের

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বাংলা বিনোদন জগতের খোলনলচে পাল্টে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিগত কয়েক বছরে টলিপাড়ায় যে ‘থ্রেট কালচার’ বা ‘ব্যান-কালচার’-এর অভিযোগ উঠছিল, তা সমূলে উৎপাটন করতে আসরে নেমেছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। পাপিয়া অধিকারী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং রুদ্রনীল ঘোষদের পাশাপাশি এবার টলিপাড়ার অন্দরের জটিলতা মেটাতে মুখ খুললেন অভিনেতা ও বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। সোমবার নন্দন চত্বরে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠক থেকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন, অযোগ্যদের দাদাগিরি আর বরদাস্ত করা হবে না।
সোমবারের ওই বৈঠকে বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি টেকনিশিয়ান ও প্রযোজক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মূল নির্যাস ছিল, কাজের জায়গায় কোনো জটিলতা তৈরি হলে সরকারি কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন গিল্ডের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তার সমাধান করা হবে। দীর্ঘদিনের পুরনো ‘ফেডারেশন রাজ’-এর পরিবর্তে স্বচ্ছতা আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত রূপটানশিল্পী সোমনাথ কুণ্ডুকে ব্যান করার প্রসঙ্গটি নিয়ে। এই বিষয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “কোনো শিল্পীকে আটকে রাখার ক্ষমতা কারও নেই। আগের সরকারের সময় থেকে যে গ্রুপিজম বা ইনফ্লুয়েন্স করার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তারা এখনও সক্রিয়। আমরা এই ম্যানিপুলেশন বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর।”
হিরণ আরও বলেন, “একদিনেই সবকিছু বদলানো সম্ভব নয়। তবে মনে রাখবেন, আজকের সরকার কোনো অনৈতিক কাজ, অসদাচরণ বা অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দেওয়াকে বিন্দুমাত্র বরদাস্ত করবে না। আগে নন্দনে সিনেমা রিলিজ করতে গেলে রেফারেন্স লাগত, এখন সেই প্রথা ভেঙে যোগ্যতাকেই মান্যতা দেওয়া হচ্ছে।”
সোমনাথ কুণ্ডুর প্রসঙ্গে হিরণ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, “সোমনাথ দাকে কেউ আটকায়নি। আমাকে জানানোর পর আমি নিজে ওনাকে আশ্বস্ত করেছি। কেউ যদি তাকে কাজে আটকানোর ধৃষ্টতা দেখায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিষ্কার করে বলছি, যদি কেউ শিল্পীদের ব্যান করার হুমকি দেয়, তবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাকেই আমরা বের করে দেব।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী আছেন, পুলিশ আছে এবং আইনের শাসন চলছে। সেই আইনের শাসনই এখন টলিপাড়ায় কার্যকর হচ্ছে। এখানে ভয় দেখিয়ে নয়, যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাবেন প্রতিটি শিল্পী ও কলাকুশলী।” পরিশেষে হিরণ বলেন, কোনো অভিনেতা বা টেকনিশিয়ান যদি আজও সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে তিনি সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। শিল্পের অবাধ পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এখন বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।