বন্ধুর বাড়িতে গিয়েই সর্বনাশ! রাতে ডেকে নিয়ে গিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

বন্ধুর বাড়িতে আতিথেয়তা গ্রহণ করতে গিয়ে চরম নৃশংসতার শিকার হলেন এক তরুণী। শনিবার রাতে দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর এলাকায় এক যুবতীকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল তাঁরই বন্ধুর বিরুদ্ধে। শুধু মূল অভিযুক্ত বন্ধু নয়, এই ঘটনায় আরও দুই ব্যক্তির জড়িত থাকার অভিযোগে মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঠাকুরপুকুর থানার পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত শনিবার গভীর রাতে এই ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতিতার অভিযোগ, তিনি তাঁর বন্ধুর আমন্ত্রণে ওই ব্যক্তির বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। মূল অভিযুক্ত তাঁর বন্ধু জোর করে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এরপর সেখানে উপস্থিত অন্য এক অভিযুক্তও ওই তরুণীর ওপর নির্যাতন চালায়। অভিযোগ, নির্যাতিতার সঙ্গে চরম অভব্য আচরণ করা হয় এবং প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁর মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
রবিবার সকালে নির্যাতিতা প্রাথমিকভাবে নেতাজিনগর থানায় গিয়ে তাঁর মোবাইল ফোনটি হারিয়ে গেছে বলে অভিযোগ জানান। কিন্তু পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি ঘটনার আসল বিবরণ খুলে বলেন। সব শোনার পর নেতাজিনগর থানা থেকে তাঁকে ঠাকুরপুকুর থানায় পাঠানো হয়। সেখানেই তিনি মূল অভিযুক্ত বন্ধু এবং তার দুই সঙ্গীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই নড়েচড়ে বসে ঠাকুরপুকুর থানার পুলিশ এবং তিন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করা হয়।
ধৃতদের পেশা সম্পর্কে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন একটি নামী খাবার সরবরাহকারী সংস্থায় নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করে। দ্বিতীয়জন পেশায় বাইক-ট্যাক্সি চালক এবং তৃতীয়জন একজন চিকিৎসকের কম্পাউন্ডার। পুলিশি জেরা ও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, প্রধান অভিযুক্তের দুই বন্ধু রবিবার সকালে ওই বাড়িতে গিয়েছিল। যদিও নির্যাতিতাকে হেনস্থার ঘটনায় তাদের ভূমিকা ঠিক কতটা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও, কেন ওই রাতে তরুণীর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো ভিডিও করার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়ে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতার মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। মোবাইল থেকে কোনো আপত্তিকর তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। ধৃতদের আজ আদালতে তোলা হবে। পুরো ঘটনার পেছনে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না বা ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।