যুদ্ধ হলে প্রবীণ-তরুণ সবাই লড়বে! পাকিস্তানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি তালিবান মন্ত্রীর, সিন্ধ-পাঞ্জাবের কথা মনে করালেন

ইস্তানবুলে দুই দিনের শান্তি আলোচনা কোনও লিখিত প্রতিশ্রুতি ছাড়াই ভেস্তে যাওয়ার পর আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এবং পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। আফগান মন্ত্রী নূরুল্লাহ নূরী সরাসরি পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলেছেন, আফগানদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া উচিত হবে না, কারণ সংঘাত শুরু হলে “আফগানিস্তানের প্রবীণ ও তরুণরা সবাই লড়ে উঠবে।”

আমেরিকা-রাশিয়ার পরিণতি থেকে শিক্ষা নিন!
আফগান গোত্র, সীমান্ত ও উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রী নূরুল্লাহ নূরী পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তাঁকে নিজের দেশের প্রযুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত নয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আফগানিস্তান আক্রমণ এবং পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার ঘটনা মনে করিয়ে দেন।

মন্ত্রী নূরী আরও ইঙ্গিত দেন যে, সংঘাত শুরু হলে তা সীমান্ত পেরোতে সময় নেবে না। তিনি পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলেন, “সিন্ধ ও পাঞ্জাবও খুব দূরে নয়।”

টিটিপি-র জন্মের জন্য দায়ী পাকিস্তানের সেনা?
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করেছিলেন, ইসলামাবাদ সরাসরি সংঘর্ষে যেতে বাধ্য হবে। অন্যদিকে, তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিস্ফোরক পাল্টা অভিযোগ এনেছেন।

মুজাহিদ অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কিছু গোষ্ঠী আফগানিস্তানে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার থাকা নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তাঁর দাবি, এই গোষ্ঠীগুলিই ঐতিহাসিকভাবে আফগানিস্তানের অস্থিতিশীলতা থেকে লাভবান হয়েছে এবং তারাই ২০০২ সালে টিটিপি (তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান)-এর জন্ম দিয়েছিল।

কাবুলের অসহযোগিতার অভিযোগ
আলোচনায় পাকিস্তান বারবার দাবি করেছিল, কাবুল সরকার যেন টিটিপি-র জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, যারা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।

তবে আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, ইসলামিক এমিরেট সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে এর ভূখণ্ড কখনও অন্য দেশের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের জন্য ব্যবহৃত হবে না। অন্যদিকে, আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরপরই কাবুল পাল্টা অভিযোগ তোলে, ইস্তানবুল বৈঠকে পাকিস্তান ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অসহযোগী’ মনোভাব দেখিয়েছিল, যা সংঘাতের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।