সেনার শক্তি বাড়াতে মেগা প্ল্যান! জলের দরে নয়, এবার দেশি প্রযুক্তিতেই তৈরি হবে ভারতের বিধ্বংসী যুদ্ধাস্ত্র!

প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক ঐতিহাসিক ও বড়সড় পদক্ষেপ করল ভারত। সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি-র (DAC) বৈঠকে সেনার আধুনিকীকরণের জন্য প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তিন বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা যে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে এই বিপুল ব্যয়ের প্রায় ৯৮ শতাংশ কেনাকাটাই করা হবে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প থেকে, যা ‘মেক ইন India’ প্রকল্পকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

এদিনের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে ভারতীয় সেনার জন্য একাধিক অত্যাধুনিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কেমিক্যাল বায়োলজিক্যাল রেডিওলজিক্যাল অ্যান্ড নিউক্লিয়ার (CBRN) রেকি ভেহিকেলস, হাই মোবিলিটি ভেহিকেলস (HMV), সেলফ-প্রোপেলড মেকানিক্যাল মাইন লেয়ার্স (MML), অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (ALH), এবং সর্বত্র ব্রিজ সিস্টেম। রাসায়নিক বা পরমাণু অস্ত্র আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করতে CBRN ভেহিকেল এবং দুর্গম পাহাড়ি বা জঙ্গলঘেরা ভূখণ্ডে দ্রুত রসদ পৌঁছে দিতে HMV অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

নৌসেনা ও বায়ুসেনার শক্তি বৃদ্ধি স্থলবাহিনীর পাশাপাশি নৌসেনার শক্তি বাড়াতেও একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নৌসেনার জন্য ‘অরুন্ধরা রাডার’ এবং মেরিন গ্যাস টারবাইন (MGT) তৈরি ও কেনার অনুমোদন মিলেছে। ফলে বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর দেশের নির্ভরতা অনেকটাই কমবে। অন্যদিকে, ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারগুলির ক্ষমতা বাড়াতে শত্রুপক্ষের রাডার নিষ্ক্রিয় করতে গ্রাউন্ড-বেসড মাল্টি-পারপাস জ্যামার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সেনার সমস্ত স্তরে কাগজের পরিচয়পত্রের বদলে আধুনিক ‘স্মার্ট কার্ড’ বা ডেফস্যাক ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সুরক্ষায় স্বাবলম্বী হওয়ার এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা কেবল সেনার আধুনিকীকরণই সুনিশ্চিত করছে না, বরং ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রকে এক অভাবনীয় অর্থনৈতিক গতিও জোগাবে।