যুক্তরাজ্যে ধুন্ধুমার অভিবাসন-বিরোধী বিক্ষোভ! রাস্তা আটকে তুমুল হাঙ্গামায় নড়েচড়ে বসল সরকার!

ফ্রান্স থেকে ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন ঠেকাতে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্য। মাত্র দুদিনের ব্যবধানে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে পরপর দুটি বড়সড় অভিবাসন-বিরোধী বিক্ষোভের জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাস্তা অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শনের এই ঘটনাকে ‘গুণ্ডামি’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
সাম্প্রতিক সময়ে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে প্রায় ১৪০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করার পরই কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। সিগনাল এবং টেলিগ্রামের মতো মেমেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়, যাতে সাড়া দেন শত শত মানুষ।
ডোভার থেকে পোর্টসমাউথ—সর্বত্র উত্তেজনা গত শনিবার ডোভার বন্দরে একদল মুখোশধারী মানুষ যান চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত করে বিক্ষোভ দেখান। ‘নৌকা চলাচল বন্ধ করো’ স্লোগান দিয়ে তাঁরা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকা আগমনকে প্রতিহত করার দাবি তোলেন। এই বিক্ষোভের জেরে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ডোভার শহরে প্রায় চার মাইল দীর্ঘ তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এরপর রবিবার রাতে ইংল্যান্ডের উপকূলীয় শহর পোর্টসমাউথের রাস্তাও অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখান কয়েকশ মানুষ।
সরকারের কড়া বার্তা ক্রমবর্ধমান এই বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার তীব্র নিন্দা করে ট্রেজারির চিফ সেক্রেটারি এমা রেনল্ডস জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের এই আচরণ সম্পূর্ণ ‘গুণ্ডাসুলভ ও ভীতিপ্রদ’। এত কম সময়ে এমন সুসংগঠিত বিক্ষোভ অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডোনা জোন্সের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এদিকে, লেবার পার্টি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার গণতন্ত্রের অংশ হলেও যাতায়াত ব্যবস্থা বিঘ্নিত করা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, ১ জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আগত অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ১৭ হাজারে নেমে এসেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ কম বলে জানিয়েছে প্রশাসন।