“যুদ্ধ শেষ, না কি ধ্বংসের শুরু? ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যে তোলপাড় বিশ্ব!

দেড় মাস ধরে চলা বিধ্বংসী লড়াইয়ের পর কি অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা থামতে চলেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে এই জল্পনা তুঙ্গে। ফক্স বিজনেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, “যুদ্ধ প্রায় শেষ।” কিন্তু একই সঙ্গে তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, মার্কিন সামরিক অভিযান এখনই পুরোপুরি গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে না।

শান্তি বৈঠক বনাম জলপথ অবরোধ: কোন দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি?

একদিকে যখন ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা শান্তি বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে তখন পারস্য উপসাগরে ইরানকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে মার্কিন নৌবাহিনী। হরমুজ প্রণালীতে শুরু হয়েছে কড়া মার্কিন অবরোধ। পরিস্থিতির মূল পয়েন্টগুলি একনজরে:

  • অবরুদ্ধ বন্দর: মার্কিন নৌসেনার কড়াকড়িতে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের কোনো বন্দর থেকে জাহাজ বের হতে পারেনি।

  • ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, “আমরা এখনই সরে দাঁড়ালে ইরানের আগের অবস্থায় ফিরতে ২০ বছর সময় লাগবে। তারা এখন চুক্তি করতে মরিয়া।”

  • ইসলামাবাদ সম্মেলন: আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানে ফের মুখোমুখি বসতে পারে তেহরান ও ওয়াশিংটন।

কেন থামছে না সংঘাত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই সহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের প্রাণহানি ঘটেছে। কিন্তু দমে যায়নি ইরানও। পালটা আক্রমণে তারা মার্কিন স্বার্থে এমন আঘাত হেনেছে, যাকে ট্রাম্প নিজেও ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে স্বীকার করেছেন।

হোয়াইট হাউসের মতে, প্রথম দফার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। তেহরান তাদের পরমাণু প্রকল্প ত্যাগ করতে নারাজ, আর ওয়াশিংটন সেটাই এই যুদ্ধের মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই জানা যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য। একদিকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে ইরানকে কোণঠাসা করা, অন্যদিকে আলোচনার টেবিল খোলা রাখা—ট্রাম্পের এই ‘ডাবল গেম’ কি পারবে বড় কোনো যুদ্ধ থামাতে? না কি হরমুজ প্রণালীর এই অবরোধ থেকে জন্ম নেবে আরও বড় কোনো ধ্বংসলীলা? নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy