বিহারের রাজনীতিতে বুধবার রচিত হলো এক অভূতপূর্ব ইতিহাস। দীর্ঘ দুই দশকের ‘নীতীশ রাজ’ কাটিয়ে দিল্লির মসনদে বসলেন বিজেপির দাপুটে নেতা সম্রাট চৌধুরী। রাজভবনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে ২১তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল। এই শপথগ্রহণের সঙ্গেই বিহারের রাজনীতিতে নীতীশ কুমার অধ্যায়ের চিরস্থায়ী ইতি ঘটল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মঙ্গলবার নাটকীয়ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নিজের মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছিলেন নীতীশ কুমার। এরপরই তিনি রাজ্যসভার পথে পা বাড়ান। তাঁর এই প্রস্থান বিজেপির জন্য খুলে দেয় বিহারের ক্ষমতার সদর দরজা। ২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় ৮৯ জন বিধায়ক নিয়ে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে এবার সরাসরি সরকার গড়ার ব্যাটন তুলে নিল বিজেপি। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এর আগে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্ব সামলেছেন, যা তাঁকে প্রশাসনিকভাবে বেশ পোড়খাওয়া করে তুলেছে।
৫৭ বছর বয়সী সম্রাটের রাজনৈতিক সফর ছিল বৈচিত্র্যে ঠাসা। ১৯৯৯ সালে রাবড়ি দেবীর মন্ত্রিসভায় সুযোগ পেলেও বয়স বিতর্কে ধাক্কা খেয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ওবিসি (OBC) ও কোয়েরি ভোটব্যাঙ্কে তাঁর শক্তিশালী প্রভাব এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিশেষ সুনজরে তিনি দ্রুত নিজেকে অপরিহার্য করে তোলেন। প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সালের সতীশ প্রসাদ সিংয়ের পর সম্রাটই দ্বিতীয় কোয়েরি নেতা, যিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসলেন।
অন্যদিকে, নীতীশ কুমারের বিদায় এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করল। ২০০৫ সাল থেকে টানা দশবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নীতীশ পরিচিত ছিলেন তাঁর উন্নয়নমূলক কাজ ও নারী সশক্তিকরণের জন্য। যদিও ঘন ঘন রাজনৈতিক রং বদলের কারণে তাঁকে ‘পাল্টু কুমার’ কটাক্ষও সইতে হয়েছে বারবার। তবে এবার আর কোনো জোটের সমীকরণ নয়, সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে সরাসরি বিজেপির শাসন বিহারের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।





