দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাত আর অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে কি এবার আলোর মুখ দেখবে পশ্চিম এশিয়া? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই জল্পনাকেই উসকে দিয়েছে। জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আবারও আলোচনায় বসতে পারে আমেরিকা ও ইরান। এমনকি ইজরায়েল ও লেবাননও সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হয়েছে—যা এই অঞ্চলের সংঘাত প্রশমনে এক ঐতিহাসিক মোড় হতে পারে।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শান্তি বৈঠক?
‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী দুই দিনের মধ্যেই পাকিস্তানের মাটিতে ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরু হতে পারে। ইসলামাবাদে গত কয়েকদিন ধরে চলা অচলাবস্থা কাটিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা ফের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দাবি অনুযায়ী, বৈঠকের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
হুঁশিয়ারি ও আলোচনার অদ্ভুত মেলবন্ধন
উল্লেখ্য যে, সোমবারই হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বন্দরগুলির ওপর নৌ অবরোধ শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে কড়া সামরিক পদক্ষেপ, অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাব—ট্রাম্পের এই ‘পাওয়ার গেম’ আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ইরানকে চাপে রেখেই চুক্তিতে সই করাতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইজরায়েল-লেবানন কি তবে পথে ফিরছে?
ইরানের পাশাপাশি আরেকটি বড় খবর হলো ইজরায়েল ও লেবাননের সরাসরি আলোচনায় বসা। ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-র মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এই বৈঠককে অত্যন্ত “গঠনমূলক” বলে বর্ণনা করেছে। দুই দেশই পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।
[Image: Donald Trump speaking at a press conference with flags of USA, Iran, and Israel in the background]
কেন পাকিস্তানকেই বেছে নেওয়া হলো?
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদের জন্য নিরাপদ এবং নিরপেক্ষ স্থান হিসেবে ইসলামাবাদকেই ফের বেছে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
সারসংক্ষেপ:
দুই দিনের মধ্যেই শুরু হতে পারে ট্রাম্প-ইরান বৈঠক।
ইজরায়েল ও লেবানন মার্কিন মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনায় সম্মত।
হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধের মাঝেই চলছে শান্তির চেষ্টা।
বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে। ট্রাম্পের এই শান্তিপ্রচেষ্টা কি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে? নাকি নতুন কোনো সংকটের সূত্রপাত হবে? আপনার মতামত জানান আমাদের কমেন্ট বক্সে।





