যুদ্ধবিমানের ‘এক্সচেঞ্জ অফার’! মিরাজ দিলেই মিলবে রাফাল, গ্রিস সফরে বড় চাল ফ্রান্সের

প্রতিরক্ষা দুনিয়ায় এক অভাবনীয় ‘এক্সচেঞ্জ অফার’ নিয়ে গ্রিস সফরে যাচ্ছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। কূটনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, গ্রিসের হাতে থাকা পুরনো মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমানের বদলে তাদের হাতে অত্যাধুনিক রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমান তুলে দিতে চায় প্যারিস।

কী রয়েছে ফ্রান্সের এই মেগা প্রস্তাবে? গ্রিক সংবাদমাধ্যম ‘একাথিমেরিনি’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ফ্রান্স চাইছে গ্রিস তাদের বহরে থাকা ৪৩টি পুরনো মিরাজ যুদ্ধবিমান (১৯টি ইজিএম/বিজিএম এবং ২৪টি মিরাজ ২০০০-৫) বসিয়ে দিক। এই বিমানগুলো পাঠিয়ে দেওয়া হবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের বায়ুসেনার সাহায্যে। আর তার পরিবর্তে গ্রিসকে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে সমসংখ্যক বা নির্দিষ্ট পরিমাণ অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান সরবরাহ করবে ফ্রান্স।

কেন এই হঠাৎ তৎপরতা? এই চুক্তির নেপথ্যে কাজ করছে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ:

  • ইউক্রেনকে সহায়তা: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আকাশপথে ইউক্রেনের শক্তি বাড়াতে মিরাজ যুদ্ধবিমান অত্যন্ত কার্যকর। ২০২৬-এর মধ্যে ইউক্রেনকে বাড়তি বিমান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই ফ্রান্সের এই কৌশল।

  • তুরস্কের ভয়: চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্কের সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলায় গ্রিস তাদের বায়ুসেনাকে আধুনিক করতে মরিয়া। রাফাল হাতে এলে অ্যাথেন্সের শক্তি বহুগুণ বাড়বে।

  • নিরাপত্তা চুক্তি: ২০২১ সালে ফ্রান্স ও গ্রিসের মধ্যে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা চুক্তি অনুসারে, দুই দেশ একে অপরের বিপদে সামরিক সহায়তা দিতে দায়বদ্ধ। সেই বন্ধুত্বের খাতিরেই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি আরও ৫ বছরের জন্য বাড়ানো হতে পারে।

মিরাজ বনাম রাফাল: শক্তির লড়াই গ্রিসের কাছে বর্তমানে মিরাজ ২০০০-এর একটি বিশাল বহর রয়েছে, যা এমবিডিএ স্ক্যাল্প-ইজি ক্রুজ ও মিকা ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম। তবে চতুর্থ প্রজন্মের মিরাজ মার্কিন এফ-১৬-এর সমতুল্য হলেও, বর্তমান আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে রাফালের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব অনেক বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি বিনিময়ে রাজি না হলেও গ্রিস তাদের পুরনো বিমানগুলো কোনও তৃতীয় দেশের কাছে বিক্রি করার পথ বেছে নিতে পারে। তবে ম্যাক্রোঁর এই সফর যে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে বড় বদল আনতে চলেছে, তা নিশ্চিত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy