“যেখানে নাম বাদ বেশি, সেখানেই বুথমুখী মানুষ!”-মুর্শিদাবাদের ৯৬% ভোটদান কি কোনো বড় সংকেত?

প্রথম দফার ভোট শেষ হতে না হতেই বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে মুর্শিদাবাদ। বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে এই জেলায় ভোটদানের হার এ যাবৎকালের সমস্ত রেকর্ড চুরমার করে দিয়েছে। কিন্তু এই বিপুল স্বতঃস্ফূর্ততার নেপথ্যে কি কেবল গণতন্ত্রের উৎসব, না কি অন্য কোনো গভীর আতঙ্ক কাজ করছে?

নাম বাদ বনাম ভোটদানের গ্রাফ

নির্বাচন কমিশনের ECINET অ্যাপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুক্রবার রাত পর্যন্ত মুর্শিদাবাদে ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯৩.৬১%। চমকপ্রদ তথ্য হলো, ভোটার তালিকা (SIR) থেকে সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছে এই জেলার ৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে। আর এই কেন্দ্রগুলোতেই ভোট পড়েছে সবথেকে বেশি— গড়ে ৯৫ শতাংশের উপরে!

পরিসংখ্যান একনজরে:

  • শামসেরগঞ্জ: নাম বাদ গেছে ৭৪,৭৭৫ জনের, ভোট পড়েছে ৯৬.১১%

  • লালগোলা: নাম বাদ গেছে ৫৫,৪২০ জনের, ভোট পড়েছে ৯৬.৪৫%

  • ভগবানগোলা: নাম বাদ গেছে ৪৭,৪৯৩ জনের, ভোট পড়েছে ৯৬.৯৫%

  • রঘুনাথগঞ্জ: নাম বাদ গেছে ৪৬,১০০ জনের, ভোট পড়েছে ৯৬.৯০%

মানুষের মনে কিসের ভয়?

কেন এমন বিপুল ভোটদান? মুর্শিদাবাদের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর মানুষ আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। তাঁদের মতে, নাম কাটা যাওয়ার অর্থ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা। তাই নিজেদের ‘অস্তিত্ব’ প্রমাণ করতেই কার্যত গ্রাম উজার করে মানুষ বুথে এসেছেন।

মোদী বনাম মমতা: কার দিকে পাল্লা ভারী?

রেকর্ড ভোটদান নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি: “মানুষ জানে এটা অধিকার রক্ষার লড়াই। এনআরসি-র হাত থেকে বাঁচতেই ভোটাররা বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। আমাদের জয় এখন সময়ের অপেক্ষা।”

  • নরেন্দ্র মোদীর পাল্টা দাবি: “ইতিহাস বলছে যেখানেই বেশি ভোট পড়ে, সেখানেই বিজেপি জয়ী হয়। মানুষ পরিবর্তনের লক্ষ্যেই রেকর্ড হারে ভোট দিয়েছেন।”

এডিটরের নোট: ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের নির্বাচনে’ বাংলায় এমন রেকর্ড ভোটদান দেখা গিয়েছিল। ২০২৬-এ (২০২৪-এর প্রেক্ষিতে সংশোধিত) মুর্শিদাবাদের এই মেগা ভোটদান কার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে আর কার মুখে হাসি ফোটায়, তা ৪ মে-র ফলাফলই বলবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy