অঞ্জন চৌধুরীর কালজয়ী সিনেমা ‘ছোটবউ’-এর সেই সংলাপ আজও বাঙালির কানে ভাসে— “মা, একটু হরলিক্স দাও না, চেটে চেটে খাব!” সেই দিনের ছোট্ট ‘মাস্টার বিট্টু’ আজ বড় হয়ে করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সোহম চক্রবর্তী। কিন্তু রাজনীতির ময়দানেও যে সেই হরলিক্স তাঁর পিছু ছাড়বে না, তা বোধহয় খোদ অভিনেতাও ভাবেননি।
ভোটের প্রচারে ‘হরলিক্স’ আবদার!
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নদিয়ার করিমপুরের তপ্ত পিচে যখন ঘাম ঝরিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন সোহম, তখনই ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা। এক মহিলা অনুরাগী থালা-বাটি নিয়ে সোজা এগিয়ে আসেন তারকা প্রার্থীর দিকে। থালায় সাজানো হরলিক্সের দুটি পাউচ! সোহমের সামনেই কাঁচি দিয়ে প্যাকেট কেটে তাঁর মুখে তুলে দেওয়ার বায়না ধরেন ওই মহিলা।
মহিলার আবদার— “আমি ছোটবেলা থেকে আপনার ছবি দেখেছি, আমার এই অনুরোধ আপনাকে রাখতেই হবে!”
অস্বস্তি কাটালেন ‘মাস্টার বিট্টু’ সুলভ বুদ্ধিতেই
ভোটের বাজারে এমন আজব আবদারে প্রথমে কিছুটা হকচকিয়ে যান সোহম। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বেশ বিব্রত ও অস্বস্তি বোধ করছেন। কিন্তু মেজাজ না হারিয়ে অত্যন্ত কৌশলে পরিস্থিতি সামাল দেন তিনি। হাত নেড়ে না বলে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের দেখিয়ে হাসিমুখে বলেন, “ছোট বাচ্চাগুলো আছে, ওদের দিয়ে দিন।” অভিনেতার এই উপস্থিত বুদ্ধিতে মুহূর্তেই হাততালির ঝড় ওঠে এলাকায়।
অতীতের স্মৃতি: এই প্রথম নয়, গত লোকসভা নির্বাচনের সময় জিয়াগঞ্জেও এক মহিলা হরলিক্সের শিশি নিয়ে সোহমের সামনে হাজির হয়েছিলেন। সোহমের বয়স যখন মাত্র ৪ বছর, তখন তাঁর সেই আদো আদো কণ্ঠের ডায়লগ আজও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসির রোল
ইতিমধ্যেই এই ভিডিওটি নেটপাড়ায় বিদ্যুৎ গতিতে ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই বলছেন, সোহম বড় হয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি আজও সেই ছোট্ট বিট্টুই রয়ে গেছেন। প্রচারের কাঠফাটা গরমে এমন হালকা মুহূর্তের ভিডিওটি এখন নেটিজেনদের বিনোদনের খোরাক।





