“যার পা কাটা, সে দু’পায়ে হাঁটবে”-‘কিডনি ও হার্ট ব্যাঙ্ক’-এর মহাপরিকল্পনা মমতার! কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

রাজ্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপন পরিকাঠামোকে নতুন দিশা দিতে বিরাট পরিকল্পনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ভবনে একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেন, এসএসকেএম-এ লিভার ব্যাঙ্ক এবং একটি অর্গান ব্যাঙ্ক তৈরির পরিকল্পনার পাশাপাশি তাঁর নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে একটি ‘কিডনি আর হার্ট ব্যাঙ্ক’ তৈরি করার।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্ল্যান আছে, একটা লিভার ব্যাঙ্ক হচ্ছে। এসএসকেএম সম্ভবত একটা অর্গান ব্যাঙ্ক করছে। আমার একটা প্ল্যান আছে একটা কিডনি আর হার্ট ব্যাঙ্ক তৈরি করার।”

লক্ষ্য, কাটা অঙ্গ যেন কাজে লাগে:
তাঁর এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো ব্যক্তির কেটে বাদ দেওয়া অঙ্গ যেন অন্য কারওর শরীরে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কাজে লাগে। তিনি বলেন, “ধরুন একটা পা কেটে বাদ দেওয়া হলো। অর্গ্যান অন্যের শরীরে কাজে লাগবে। যার একটা পা, সে যেন দুপায়ে হাঁটতে পারে। যার একটা হাত, সে যাতে দুটো হাতে কাজ করতে পারে।” তিনি জানান, এই ‘আইডিয়া’গুলো বাস্তবায়িত করার জন্য পরিকল্পনা এবং অর্থের প্রয়োজন।

একসঙ্গে ১১০টি অত্যাধুনিক ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা যানের সূচনা:
এদিকে, এদিন রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে গ্রাম ও দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছে দিতে বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে একসঙ্গে ১১০০টি সম্পূর্ণ সজ্জিত মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট (ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা যান) চালু হলো। স্বাস্থ্য ভবন থেকে এই পরিষেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দলের রাজ্যসভার সাংসদদের উন্নয়ন তহবিল থেকে পাওয়া ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ২১০টি ভ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ১১০টির উদ্বোধন করা হলো।

ভ্রাম্যমাণ ইউনিটে কী কী থাকছে: প্রতিটি ভ্যানে আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী, ওষুধ, রক্তচাপ ও শর্করা মাপার মেশিন এবং ইসিজি করার ব্যবস্থাও থাকবে।

কর্মী: প্রতিটি ইউনিটে ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ানরা উপস্থিত থাকবেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এর আগে সাংসদদের তহবিল থেকে ৩০০টি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছিল। এবার ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা’-র ধাঁচে এই চলমান হাসপাতাল চালু করা হলো। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, এই পরিষেবা সচল রাখতে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ হবে।

স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী চান স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সরাসরি মাটির মানুষের দরজায় পৌঁছাক, এবং এই মোবাইল ইউনিটগুলি সেই ‘সেতুবন্ধনের’ কাজ করবে।