দক্ষিণবঙ্গ তথা গোটা রাজ্যজুড়ে চড়চড় করে বাড়ছে পারদ। এই তীব্র দাবদাহ ও ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা মোকাবিলা করতে এবং রেলযাত্রীদের স্বস্তি দিতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল পূর্ব রেল। গরমের মরসুমে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করার সময় যাত্রীরা যাতে একটু শান্তিতে জিরিয়ে নিতে পারেন, তার জন্য বিভিন্ন স্টেশন ও ডিভিশনগুলিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এসি এবং ওয়াটার কুলার বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
পূর্ব রেলের দেওয়া শুধু মাত্র এপ্রিল মাসের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যাবে কাজের বহর। ইতিমধ্যেই পূর্ব রেলওয়ে এলাকা জুড়ে মোট ৭৮টি নতুন ওয়াটার কুলার ইনস্টল করা হয়েছে। এর মধ্যে তীব্র ভিড়ের শিয়ালদা বিভাগে ৬টি এবং মালদা বিভাগে ৬টি ওয়াটার কুলার বসানো হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক আসানসোল বিভাগে, যেখানে এক ধাক্কায় ৬৬টি নতুন ওয়াটার কুলার বসিয়েছে রেল প্রশাসন।
কেবল ঠান্ডা জলই নয়, যাত্রীদের হাওয়ার অভাব মেটাতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। মালদা বিভাগের রাজমহল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের আরামের জন্য ৪টি নতুন ‘এয়ার-সার্কুলেটিং ফ্যান’ লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি জঙ্গিপুর রোড স্টেশনের এবিএসএস (ABSS) ভবনে ৫টি আধুনিক স্প্লিট এসি বসানো হয়েছে। পানীয় জলের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে মুঙ্গের স্টেশনে একটি নতুন ২ এইচপি (HP) সাবমার্সিবল পাম্পও চালু করা হয়েছে।
প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি রাতের যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আলোর অভাব দূর করতেও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রেল। শিয়ালদা ও মালদা বিভাগের সবচেয়ে বেশি ভিড় হওয়া ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে আলোর মান অনেক উন্নত করা হয়েছে। এছাড়াও মালবাহী ট্রেনের কাজের সুবিধার জন্য উখড়া ইয়ার্ড এবং নিউ স্টক সাইডিং ইয়ার্ডে ৭টি হাই-মাস্ট টাওয়ার লাইট চালু করেছে পূর্ব রেলওয়ে। এর ফলে রাতের ভ্রমণ বা পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ অনেক বেশি উজ্জ্বল ও নিরাপদ হবে।
রেল সূত্রে খবর, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে এবং স্টেশনে হাওয়ার জোগান বাড়াতে এই এক মাসেই শিয়ালদা, আসানসোল, হাওড়া, মালদহ, জামালপুর, লিলুয়া এবং কাঁচরাপাড়া অঞ্চলে ২,৪৬১টি আধুনিক প্রযুক্তির বিএলডিসি (BLDC) সিলিং ফ্যান লাগানো হয়েছে। কারিগরি পরিকাঠামো মজবুত করতে মালদহে ২৪টি ২-টনের স্প্লিট এসি এবং শিয়ালদায় ৯টি স্টার-রেটেড এসি লাগানো হয়েছে।
স্টেশনগুলির সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যাতে কোনও বড় বিপর্যয় না ঘটে, তার জন্য তালঝারি, ধরহরা এবং মুঙ্গের স্টেশনে নতুন ট্রান্সফরমার বসানো হয়েছে। আসানসোলের কোচিং কমপ্লেক্সগুলিতে ৩টি নতুন এলটি (LT) প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। বজ্রপাত বা শর্ট সার্কিট থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালদহ বিভাগে ৪০৫টি রক্ষণাবেক্ষণ-মুক্ত ‘আর্থিং পয়েন্ট’ তৈরি করা হয়েছে। রেল আবাসনের জন্য দেওয়া হয়েছে ৯৬টি স্মার্ট প্রি-পেইড এনার্জি মিটার।
রেলের এই আধুনিকীকরণের ছোঁয়া থেকে বাদ যায়নি প্রত্যন্ত এলাকার হল্ট স্টেশনগুলিও। জগদীশপুর, বেলা হল্ট এবং তেলিয়া স্টেশনের বৈদ্যুতিকীকরণ সম্পন্ন করেছে পূর্ব রেল। একই সাথে বারহারওয়া, তিলডাঙ্গা ও মণিগ্রাম স্টেশনে আচমকা বিদ্যুৎ বিভ্রাট সামাল দিতে জরুরি ইনভার্টার সরবরাহ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই তীব্র গরমে রেলযাত্রীদের সফরকে আরামদায়ক ও নিরাপদ করতে পূর্ব রেলের এই মাস্টারস্ট্রোক আমজনতার কাছে অত্যন্ত প্রশংসিত হচ্ছে।





