রাজ্যে একের পর এক জেলা থেকে শাসকদলের নেতা-নেত্রীদের গ্রেপ্তারির ঘটনা যেন থামতেই চাইছে না। উত্তর দিনাজপুরের পর এবার নদীয়ার কৃষ্ণনগরে তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তৃণমূলের এক শীর্ষ স্থানীয় নেতা। ধৃত নেতার নাম সরজিত বিশ্বাস। তিনি কৃষ্ণনগর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির বর্তমান কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এবং দিগনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান। শনিবার গভীর রাতে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নদীয়া জেলা রাজনীতিতে জোর আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার মূল উৎস দিগনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একটি দেশি মদ তৈরির কারখানা। ওই কারখানায় এক ঠিকাদারের মাধ্যমে শ্রমিক সরবরাহের কাজ করতেন অভিযুক্ত সরজিত বিশ্বাস। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই মদ কারখানার সাধারণ কর্মীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলা আদায় বা কাটমানি নিচ্ছিলেন তিনি। মাসের পর মাস এই শোষণ চলার পর অবশেষে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে ভুক্তভোগীদের।
শ্রমিকদের হেনস্থা ও বেআইনিভাবে টাকা হাতানোর এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরজিত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। শনিবার রাতে তৎপরতা দেখিয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে তাঁর এলাকা থেকেই গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। আজ, রবিবার ধৃতকে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে। সরকারি পদের অপব্যবহার ও এই তোলাবাজি চক্রের গভীরে পৌঁছতে ধৃত নেতাকে ৫ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ধৃত সরজিত বিশ্বাস। আদালতে যাওয়ার পথে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর পাল্টা দাবি, “আমি একজন সক্রিয় তৃণমূল কর্মী, আর ঠিক সেই কারণেই আমাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। আমি কোনও রকম তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত নই।”
পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “শনিবার রাতে পুলিশ আমাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসে। কিন্তু কেন আমায় ধরা হলো, কী অপরাধ আমার— সে বিষয়ে পুলিশ কিছুই জানায়নি। এর আগে আমার বিরুদ্ধে কোনও দিন কোনও অভিযোগ ছিল না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই আমার বিরুদ্ধে এই ধরণের ন্যাক্কারজনক আচরণ করা হচ্ছে।” তবে সরজিতবাবু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার তত্ত্ব খাড়া করলেও, পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে নির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে আর কোনও বড় মাথা জড়িত আছে কিনা, তা জানতে তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।





