যাত্রী দুর্ভোগের চূড়ান্ত, মেট্রোর মরণঝাঁপ ও ১৬ ঘণ্টা বন্ধ দ্বিতীয় হুগলি সেতু, নাকাল শহরবাসী

সপ্তাহান্তের সকালে জোড়া সমস্যায় নাজেহাল কলকাতা। একদিকে মেট্রো লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার জেরে ব্যাহত ব্লু লাইনের পরিষেবা, অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রবিবার টানা ১৬ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হচ্ছে বিদ্যাসাগর সেতু বা দ্বিতীয় হুগলি সেতু। এই দুই ঘটনার জেরে শহর এবং শহরতলির যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
শনিবার সকালে কালীঘাট মেট্রো স্টেশনে এক ব্যক্তি হঠাৎই লাইনে ঝাঁপ দেন। এই ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারের কাজ শুরু করেন মেট্রো কর্মীরা। যাত্রীদের নিরাপত্তার খাতিরে ব্লু লাইনের পুরো রুটে পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। বর্তমানে মেট্রো চলাচল খণ্ডিতভাবে চলছে। আপাতত ময়দান থেকে দক্ষিণেশ্বর এবং দক্ষিণেশ্বর থেকে ময়দান পর্যন্ত আপ ও ডাউন লাইনে মেট্রো পরিষেবা সচল রয়েছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। তবে ছুটির দিনে এই ঘটনার জেরে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
অন্যদিকে, রবিবারের জন্য জারি করা হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক নির্দেশিকা। বিদ্যাসাগর সেতুর (দ্বিতীয় হুগলি সেতু) স্টে-কেবল, হোল্ডিং ডাউন কেবল এবং বেয়ারিং পরিবর্তনের মতো জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজের জন্য আগামী ২৮ জুন, রবিবার টানা ১৬ ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওইদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কোনো গাড়িই এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।
সেতু বন্ধ থাকার ফলে কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রীদের জন্য ট্রাফিক পুলিশ বিকল্প পথের পরামর্শ দিয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ের জন্য হাওড়া ব্রিজ (রবীন্দ্র সেতু) অথবা নিবেদিতা সেতু ব্যবহার করে গাড়ি যাতায়াত করতে পারবে। যদিও রবিবার ছুটির দিন হওয়ার কারণে রাস্তায় যানবাহনের চাপ সাধারণ দিনের তুলনায় কিছুটা কম থাকবে বলেই অনুমান করা হচ্ছে, তবুও এই দীর্ঘস্থায়ী মেরামতির কাজের ফলে যানজট হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যাত্রী ও গাড়িচালকদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার বিকল্প রুট ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। মেট্রোর পরিষেবা কখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে এবং বিদ্যাসাগর সেতুর মেরামতির কাজ ঠিক কতটা দ্রুত শেষ হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।