যাত্রীদের জন্য বিরাট উপহার! এবার ‘যাত্রী সাথী’র সঙ্গে হাত মেলাল ‘ভারত ট্যাক্সি’, ডিজিটাল পরিবহণে নজিরবিহীন বিপ্লব রাজ্যে

পশ্চিমবঙ্গের ডিজিটাল গণপরিবহণ পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক এবং জনমুখী করে তুলতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দফতর (DoIT&E)-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষর করেছে সমবায় ভিত্তিক সুপরিচিত সংস্থা ‘সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ লিমিটেড’, যা সর্বসমক্ষে ‘ভারত ট্যাক্সি’ নামে অত্যন্ত পরিচিত। রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও পরিশ্রমী ট্যাক্সিচালকদের সার্বিক কল্যাণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই নতুন উদ্যোগ ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ইতিবাচক সাড়া ফেলে দিয়েছে।

রবিবার বিকেলে একটি বিশেষ সরকারি অনুষ্ঠানে আমূলের নতুন দই কারখানার শিলান্যাস করার শুভক্ষণেই এই গুরুত্বপূর্ণ মউ স্বাক্ষরের কথা সগর্বে ঘোষণা করেন দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ। পরবর্তী সময়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ একটি বিস্তারিত পোস্ট শেয়ার করে এই অংশীদারিত্বের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণা অনুযায়ী, সরকারি সহায়তায় পরিচালিত আধুনিক অ্যাপ ক্যাব প্ল্যাটফর্ম ‘ভারত ট্যাক্সি’-র সঙ্গে রাজ্য সরকারের নিজস্ব জনপ্রিয় মোবিলিটি অ্যাপ ‘যাত্রী সাথী’-র এই মেলবন্ধন বাংলার পরিবহন ব্যবস্থাকে এক সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। মূলত যাত্রী সাধারণের স্বাচ্ছন্দ্য এবং গাড়ি চালকদের আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই জোড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে।

এই নতুন ও কৌশলগত সহযোগিতার ফলে ‘যাত্রী সাথী’ এবং ‘ভারত ট্যাক্সি’—উভয় প্ল্যাটফর্মের পরিষেবার মধ্যে এক নিখুঁত প্রযুক্তিগত সমন্বয় তৈরি হবে। এর জেরে রাজ্যবাসী আরও সহজে, কম খরচে এবং দ্রুততার সঙ্গে ক্যাব বুকিং সহ অন্যান্য ডিজিটাল পরিষেবাগুলি ব্যবহার করতে পারবেন। কো-ব্র্যান্ডিং এবং উন্নত প্ল্যাটফর্ম ইন্টারঅপারেবিলিটির মাধ্যমে এই যৌথ পরিষেবাগুলির পরিধি আগামী দিনে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ওলা বা উবারের মতো কমার্শিয়াল অ্যাপ ক্যাবগুলির ওপর সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত নির্ভরতা অনেকাংশে কমবে এবং সুলভ মূল্যে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।

শুধু যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করাই নয়, এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান ও উল্লেখযোগ্য দিক হলো রাজ্যের হাজার হাজার খেটে খাওয়া চালক সম্প্রদায়ের কল্যাণসাধন। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যোগ্য এবং নিবন্ধিত ‘যাত্রী সাথী’ চালকদের ভারত ট্যাক্সি কো-অপারেটিভের সরাসরি সদস্যপদ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, তাঁদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক ও আর্থিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সুনিশ্চিত করা হবে। এর ফলে রাজ্যের ট্যাক্সিচালকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং পেশাগত অধিকার আরও বেশি জোরদার হবে, যা তাঁদের দীর্ঘদিনের অভাব-অভিযোগ অনেকটাই লাঘব করবে।

পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব করে তুলতে এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী দিনে এই অংশীদারিত্বের পরিধি আরও বাড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী বাইক ট্যাক্সি এবং অটো-রিকশা পরিষেবাগুলিকেও ‘যাত্রী সাথী’ প্ল্যাটফর্মের মূল কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর ফলে কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের সমস্ত জেলা ও প্রান্তিক অঞ্চলগুলিতেও ডিজিটাল গণপরিবহণ পরিষেবা দ্রুত বিস্তৃত হবে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত আরও বেশি সহজ, সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক হয়ে উঠবে। প্রযুক্তির সর্বোত্তম ও সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে এক দক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য গণপরিবহণ পরিকাঠামো গড়ে তোলাই বর্তমান প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।