যন্তর মন্তরে ধুন্ধুমার! নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারের পরেই রাজনৈতিক পারদ চড়ল তুঙ্গে

রাজধানীর যন্তর মন্তর এলাকায় জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক প্রবেশের অভিযোগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর তিন শীর্ষ নেতা—সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্ক শিন্ডেকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার সকালে অভিযুক্ত তিনজনকে এসসিএম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারিক হেফজতের (জুডিশিয়াল কাস্টডি) নির্দেশ দেন। এর জেরে তাঁদের তিহার জেলে পাঠানো হতে পারে বলে আইনি সূত্রে জানা গিয়েছে।
সিজেপি’র আইনি উপদেষ্টা রত্না সিং ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন যে, গভীর রাত পর্যন্ত অভিযুক্তদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ভোর তিনটে নাগাদ একটি ব্যক্তিগত ভ্যানে করে তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। অন্যদিকে, পুলিশের স্পষ্ট বক্তব্য, যন্তর মন্তরকে সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় বিক্ষোভের নির্ধারিত এলাকা হিসেবে বাতিল করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ব্যারিকেড টপকে বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন ওই নেতারা।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার অন্য একটি বিক্ষোভের সময় আটক হওয়ার পর আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার বন্ডে স্বাক্ষর করেছিলেন। ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এ কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে সিজেপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের লাগাতার আন্দোলনের জেরে বর্তমানে রাজধানী জুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। গত ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ কমিশনার রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে আন্দোলনের স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করে নির্দেশিকা জারি করেন। ফলে যন্তর মন্তরে জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
সিজেপি নেতৃত্ব প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছে যে, জাতীয় রাজধানীর রাজনৈতিক কেন্দ্র থেকে বিক্ষোভের পরিসর দূরে সরিয়ে দিলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের স্বর চাপা পড়ে যাবে এবং তা আন্দোলনকে দুর্বল করে তুলবে। তবে সব মিলিয়ে এই গ্রেফতারি কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে।