সীমান্তের ওপার থেকে ছক? নয়ডার শ্রমিক আন্দোলনে পাক হ্যান্ডলারদের অনুপ্রবেশ! কীভাবে চলত ষড়যন্ত্র?

উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় গত কয়েকদিন ধরে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনের অন্তরালে গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে প্রশাসন। নয়ডা পুলিশের দাবি, এই হিংসাত্মক আন্দোলনের পেছনে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। ওপার থেকেই উস্কানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে শ্রমিকদের খেপিয়ে তোলা হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

কীভাবে ছড়ানো হতো উস্কানি? পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মী সিং জানিয়েছেন, তদন্তে পাকিস্তানের দুটি বিশেষ এক্স (X) হ্যান্ডেলের হদিশ মিলেছে। ওপার থেকে ভুয়ো ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর মেসেজ ছড়ানো হচ্ছিল যাতে নয়ডার শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়। এছাড়া বেশ কিছু হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমেও উস্কানি দেওয়া হতো। ইতিমধ্যেই ওই অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য:

  • প্ররোচনা ও গুজব: পুলিশ জানিয়েছে, শ্রমিকদের দাবিকে আড়াল করে কিছু ‘বহিরাগত’ এই আন্দোলনে ঢুকে পড়েছিল। তারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করেছিল যে প্রশাসন শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, যা কার্যত ছিল অসত্য।

  • মাস্টারমাইন্ডদের খোঁজ: এই ঘটনায় রুপেশ রায়, মণীষা চৌহান এবং আদিত্য আনন্দ নামে তিনজনের নাম সামনে এসেছে। পুলিশ এদের মধ্যে রুপেশ ও মণীষাকে গ্রেফতার করেছে। এনআইটি জামশেদপুর থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ার আদিত্য আনন্দের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

  • বিপুল গ্রেফতারি: নয়ডা হিংসার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৩টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং ৬২ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সরকারের কড়া অবস্থান: উত্তরপ্রদেশের শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর একে ‘সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দিতেই এই অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পাঞ্চলগুলোতে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।

শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির দাবিকে হাতিয়ার করে যেভাবে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র ও দেশবিরোধী উস্কানি কাজ করেছে, তা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy