‘যতদিন আমি আছি, মিয়া মুসলিমরা শান্তিতে থাকতে পারবে না!’ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্যে অসমের রাজনীতিতে তীব্র ঝড়!

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাম্প্রতিক এক বক্তব্য রাজ্যজুড়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, “যতদিন আমি আছি, যাদের ‘মিয়া মুসলিম’ বলা হয়, তারা অসমে শান্তিতে থাকতে পারবে না। আমার দায়িত্ব তাদের অশান্ত রাখা। যত বেশি প্রতিবাদ করবে, উচ্ছেদ অভিযানের গতি তত বাড়বে।” মুখ্যমন্ত্রীর এমন সরাসরি মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ঘরজমি দখল ও নদীর চর এলাকায় বসবাসকারী অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। সরকারের দাবি, এই উচ্ছেদ অভিযানের লক্ষ্য জনবসতি পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বেআইনিভাবে দখল হওয়া প্রাকৃতিক ভূমি পুনরুদ্ধার।
‘গণতান্ত্রিক শপথ লঙ্ঘন’ এবং মেরুকরণের অভিযোগ:
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যটি ছড়িয়ে পড়তেই কংগ্রেস, এআইইউডিএফ এবং বাম দলগুলো এর তীব্র নিন্দা করে। এআইইউডিএফ নেতা বদরুদ্দীন আজমল অভিযোগ করেন, “মুখ্যমন্ত্রী যদি জানান তাঁর দায়িত্ব একটি সম্প্রদায়কে অশান্ত রাখা, তবে তা গণতান্ত্রিক শপথের সরাসরি লঙ্ঘন।” কংগ্রেসের দাবি, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নির্বাচনের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন, যাতে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও গভীর হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, পদাধিকারীর অবস্থান থেকে প্রকাশ্যে কোনও জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে এমন মন্তব্য সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
তবে শাসক দল বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে দৃঢ়ভাবে সওয়াল করেছে। দলের নেতাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, এই উচ্ছেদ নীতি কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং অবৈধ বসতির বিরুদ্ধে। বিজেপির বক্তব্য, “অসমের প্রাকৃতিক, সাংস্কৃতিক ও জনবসতি কাঠামো রক্ষা করাই রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”
বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই শাসক শিবির নীতির উপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা দাবি করছে সরকার সচেতনভাবে বিভাজন তৈরি করে জনজীবনের মূল প্রশ্ন থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছে। এই মন্তব্যের অভিঘাতে অসমের ভবিষ্যৎ রাজনীতি যে নতুন মোড়ে প্রবেশ করতে চলেছে, তা স্পষ্ট।