‘মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক অতীত’- বিস্ফোরক মন্তব্য প্রাক্তন মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টার!

ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক এখন এক গভীর সংকটের মুখে। প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন বিস্ফোরক মন্তব্য করে জানিয়েছেন, একসময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, তা এখন আর অবশিষ্ট নেই। বল্টনের মতে, ট্রাম্পের ‘ব্যক্তিগত সমীকরণ’-এর ওপর নির্ভরশীল পররাষ্ট্রনীতিই এই খারাপ সম্পর্কের মূল কারণ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এলবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বল্টন বলেন, “ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে কেবল ব্যক্তিগত সমীকরণের মাধ্যমে দেখেন।” তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “ট্রাম্পের সঙ্গে মোদীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুব ভালো ছিল, কিন্তু সেটি এখন অতীত।” তিনি সতর্ক করেন যে, শুধু ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব কোনো বিদেশি নেতাকে ট্রাম্পের খারাপ সিদ্ধান্ত থেকে রক্ষা করতে পারে না।
বল্টন মনে করেন, ট্রাম্পের এই নীতি ভারতকে আবার রাশিয়া ও চিনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। “আমেরিকার দুই দশকের প্রচেষ্টা ছিল ভারতকে মস্কোর প্রভাব থেকে দূরে রাখা, কিন্তু ট্রাম্পের নীতিতে সেই প্রচেষ্টা এক ঝটকায় উল্টে গেল,” বলেন তিনি। তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, “হোয়াইট হাউস কয়েক দশকের অগ্রগতি নষ্ট করে দিয়েছে, যার ফলে মোদি আজ রাশিয়া ও চিনের আরও কাছাকাছি।”
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তের পর হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা পিটার নাভারোও প্রকাশ্যে ভারতের রাশিয়া-চিন ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। এই পদক্ষেপগুলোই দিল্লি-ওয়াশিংটনের সম্পর্কে অস্বস্তির মূল কারণ।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি সংসদে নাম না করে ট্রাম্পের বক্তব্য খারিজ করে দিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে মে মাসে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ তিনি থামিয়েছিলেন। কিন্তু মোদি জানান, “অপারেশন সিন্দূর বন্ধ করার জন্য কোনো বিশ্বনেতাই ভারতকে বলেননি।”
বল্টনের এই সতর্কবার্তা এটাই প্রমাণ করে যে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্কের রাজনীতি ভারত ও আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।