অঙ্কিত বালিয়ান হত্যাকাণ্ডে উত্তাল উত্তর প্রদেশ! মন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে কী বললেন জয়ন্ত চৌধুরী?

উত্তর প্রদেশের শামলিতে চাঞ্চল্যকর হরিয়ানি গায়ক এবং অভিনেতা অঙ্কিত বালিয়ান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রীয় লোক দল (RLD) প্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী সরাসরি শামলির বান্টিখেরা গ্রামে গিয়ে নিহত অঙ্কিত বালিয়ানের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি শোকাহত পিতা সত্যবীর সিং, মা এবং স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি, এই কঠিন সময়ে শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে সবরকমভাবে থাকার দৃঢ় আশ্বাসও দেন তিনি।

অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও পরবর্তীতে দুই প্রধান শুটারের এনকাউন্টার প্রসঙ্গে সমাজবাদী পার্টির (SP) সাংসদ অবধেশ প্রসাদ দাবি করেছেন যে, ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই এনকাউন্টার সংগঠিত হয়েছে, তা অত্যন্ত গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, অপরাধীদের শাস্তির জন্য দেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিচার হওয়া উচিত। তবে মৃত অঙ্কিত বালিয়ানের বোন রীনা এই পুলিশি এনকাউন্টার প্রসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তাঁরা সাময়িকভাবে সন্তুষ্ট হলেও আসল শান্তি তখনই পাবেন, যখন তাঁর ভাইয়ের সমস্ত খুনিদের সম্পূর্ণ নিধন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। যতদিন না তা হচ্ছে, ততদিন তাঁরা কিছুতেই শান্ত হয়ে বসে থাকবেন না।

পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা চিন্তা করে রীনা রাজ্য সরকারের কাছে দুটি বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর বাবা-মা বয়স্ক এবং মৃত অঙ্কিতই ছিলেন তাঁদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। তাই পরিবারের কাউকে একটি সরকারি চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি অঙ্কিতের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং সেখানে তাঁর মূর্তি স্থাপনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি। এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। উত্তর প্রদেশের মন্ত্রী সঞ্জয় নিষাদ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা সামনে এনে দাবি করেছেন যে, সরকার অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তবে বিরোধী দলগুলো এই ইস্যুতে সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছে। উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অজয় রাই বর্তমান সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্যে লাগাতার অপরাধ ঘটেই চলেছে এবং সরকার স্রেফ ভুয়ো বাহবা কুড়ানোর জন্যই এনকাউন্টারের রাজনীতি করছে। সবমিলিয়ে এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড এবং রাজনৈতিক নেতাদের নানামুখী প্রতিক্রিয়ায় উত্তর প্রদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সম্পূর্ণ উত্তপ্ত।