শ্রাবণ মাসে লখিমপুরের রহস্যে ঘেরা প্রাচীন শিব মন্দির! কোথায় ঝাড়ু নিবেদন করলেই পূরণ হয় মনের ইচ্ছে?

শ্রাবণ মাস মানেই দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনায় মুখরিত চারপাশ। উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলা প্রাচীনকাল থেকেই তার সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত, যাকে বহু মানুষ ‘ছোট কাশী’ নামেও অভিহিত করেন। শ্রাবণ মাসের এই পবিত্র সময়ে দূরদূরান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী ও শিবভক্ত ভগবান শিবের মাথায় জল অর্পণ করতে এবং তাঁর কৃপা লাভ করতে এই অঞ্চলে ছুটে আসেন। ভক্তদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই সমস্ত প্রাচীন পবিত্র মন্দিরে সচারাচর আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করলে প্রতিটি মনস্কামনা নিশ্চিতভাবেই পূরণ হয়।

লখিমপুর শহরের কেন্দ্রস্থলে সিভিল লাইন্স এলাকার পুরনো এসপি বাংলোর ঠিক পাশেই অবস্থিত ঐতিহাসিক জাংলিনাথ মন্দির। জনশ্রুতি রয়েছে যে, একসময় এই পুরো অঞ্চলটি অত্যন্ত ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল এবং সেই গভীর বনের বুকেই আকস্মিকভাবে একটি শিবলিঙ্গ আবিষ্কৃত হয়। জঙ্গলে এই শিবলিঙ্গ পাওয়ার ফলেই মন্দিরটির নামকরণ করা হয় জাংলিনাথ। শ্রাবণ মাসের প্রতিটি সোমবারে এখানে সাধারণ ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অন্যদিকে, লখিমপুর খেরির মেলা প্রাঙ্গণে অবস্থিত ভুইফোরবনাথ মন্দিরটি এলাকার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র। এর নামকরণের পেছনেও রয়েছে এক অদ্ভুত অলৌকিক বিশ্বাস—স্থানীয়দের মতে, এখানকার শিবলিঙ্গটি মাটি ভেদ করে নিজে থেকেই ওপরের দিকে উঠে এসেছিল, যা আজও স্বয়ংপ্রকাশিত শিবলিঙ্গ হিসেবে অত্যন্ত ভক্তির সঙ্গে পুজিত হয়।

লখিমপুর খেরি জেলার মোহাম্মদী-বারওয়ার সড়কে অবস্থিত প্রাচীন পালননাথ শিব মন্দিরটি তার ব্যতিক্রমী ঐতিহ্য ও লোকবিশ্বাসের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত। মহাভারত আমলের এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এখানকার ভক্তরা নিজেদের মনের ইচ্ছা পূরণ হওয়ার পর কৃতজ্ঞতা স্বরূপ ভগবান শিবকে ঝাঁড়ু নিবেদন করে থাকেন। এছাড়া লখিমপুর শহর থেকে প্রায় নয় কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত পৌরাণিক দেবকালী তীর্থের ইতিহাস আরও রোমাঞ্চকর। বিশ্বাস করা হয় যে, এই স্থানটি মহাভারতের যুগে রাজা জনমেজয়ের বিখ্যাত নাগ যজ্ঞের পবিত্র ক্ষেত্র ছিল এবং এখানকার বিশেষ মাটির স্পর্শ সাপকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

জেলা সদর থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত টেঢ়েনাথ শিব মন্দির একটি অত্যন্ত বিখ্যাত ও প্রাচীন তীর্থস্থান। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, খোদ মহাভারতের আমলের বীর চরিত্র অর্জুন এই ঐতিহাসিক মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখানে জলাভিষেক করার পর ভক্তদের সমস্ত বাসনা পূর্ণ হয় বলে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। একইভাবে, শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে জুনাই ও কণ্ডওয়া নদীর অববাহিকায় অবস্থিত লীলৌতিনাথ শিব মন্দিরের ইতিহাসও দ্বাপর যুগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিংবদন্তি রয়েছে যে, গুরু দ্রোণাচারের পুত্র অশ্বত্থামা নিজহাতে এই মন্দিরের শিবলিঙ্গ স্থাপন করেছিলেন। এই সমস্ত অলৌকিক ও পৌরাণিক মহিমায় ভাস্বর লখিমপুর খেরির মন্দিরগুলি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র আধ্যাত্মিক গন্তব্য হিসেবে সমাদৃত।