মোদীর জন্মদিনে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তুঙ্গে! বিজেপি যখন উৎসবে, যুব কংগ্রেস তখন বিক্ষোভের পথে, কেন?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৫তম জন্মদিন যখন দেশজুড়ে বিজেপি নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা উদযাপনে মেতে উঠেছেন, ঠিক তখনই কংগ্রেসের যুব সংগঠন এই দিনটিকে ‘রাষ্ট্রীয় বেরোজগারি দিবস’ হিসেবে পালন করল। দিল্লিতে যুব কংগ্রেসের সদর দফতর ছাড়াও হরিয়ানা, কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ এবং বিহারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কালো টি-শার্ট পরে অভিনব বিক্ষোভ দেখান যুব কংগ্রেস কর্মীরা।

যুব কংগ্রেসের অভিনব প্রতিবাদ

যুব কংগ্রেসের সভাপতি উদয় ভানু চিব-এর নেতৃত্বে কর্মীরা দিল্লিতে বিক্ষোভ করেন। সেখানে কালো টি-শার্ট পরে জুতো পালিশ করে এবং চা ও পকোড়ার স্টল বসিয়ে তারা সরকারের কর্মসংস্থান নীতিকে ব্যঙ্গ করেন। তাদের টি-শার্টে লেখা ছিল, “নকরি চোর, গদ্দি ছোড়।” তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রতি বছর ২ কোটি চাকরির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ করেননি। বরং, তার আমলে দেশে কর্মসংস্থানের নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের যুব সংগঠনের বক্তব্য, আজকের শিক্ষিত যুবকরা ডিগ্রি নিয়েও চা ও পকোড়ার স্টল খুলতে বাধ্য হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বিক্ষোভের পাশাপাশি কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান এবং তার সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। অন্যদিকে, বিজেপি এই দিনে একাধিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেন। তিনি দাবি করেন, মোদী দিল্লির জন্য অনেক কাজ করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেন, তার অনুপ্রেরণায় ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

এভাবে, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে একদিকে যখন বিজেপি উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে, তখন অন্যদিকে কংগ্রেস যুবকদের বেকারত্বের বিষয়টি সামনে এনে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।