বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে আরও কঠোর নবান্ন, দুর্নীতির লাগাম টানতে নতুন গাইডলাইন, কী কী পরিবর্তন আসছে?

বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে প্রথম দফার তালিকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর এবার নবান্ন আরও সতর্ক। দ্বিতীয় দফায় যাতে কোনও অনিয়ম না হয়, তার জন্য রাজ্য সরকার ৬ দফার একটি বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে। এই নতুন নির্দেশিকার লক্ষ্য হল, প্রকৃত সুবিধাভোগীরাই যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান।
নতুন নজরদারির ৬ দফা
১. সোশ্যাল অডিট টিম: এই বিশেষ দল স্বাধীনভাবে প্রকল্পের তালিকা যাচাই করবে।
২. মোবাইল অ্যাপ ভেরিফিকেশন: মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য ক্রস ভেরিফাই করা হবে, যাতে ভুল তথ্য সহজে ধরা পড়ে।
৩. প্রশাসনিক যাচাই: প্রয়োজন হলে থানা স্তরের ওসি ও আইসি, এবং রাজ্য মনিটরিং টিম তালিকা যাচাই করবে।
৪. বাধ্যতামূলক পরিদর্শন: বিডিও ও জয়েন্ট বিডিও বাধ্যতামূলকভাবে ১৫% তালিকা সরেজমিনে খতিয়ে দেখবেন। একইভাবে এসডিও স্তরে ৫% এবং জেলা স্তরে ২% তালিকা পরীক্ষা করা হবে।
৫. দ্রুত সমাধান: কোনো অভিযোগ এলে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তা সমাধান করতে হবে।
৬. অভিযোগ জানানোর সুযোগ: ‘দিদিকে বলো’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিযোগ জানানো যাবে। এছাড়াও, জেলা শাসক, বিডিও ও এসডিও অফিসে রাখা কমপ্লেন বক্সে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ারও ব্যবস্থা থাকবে।
তালিকা তৈরির সময়সূচি
এই নতুন নজরদারি ব্যবস্থার অধীনে তালিকা তৈরির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে:
১০ অক্টোবর: সুবিধাভোগীদের নাম পুনর্মূল্যায়ন সম্পূর্ণ করতে হবে।
১৫ অক্টোবর: সরেজমিনে গিয়ে যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।
৩ নভেম্বর: গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক ও জেলা অফিসে খসড়া তালিকা প্রকাশ।
১০ নভেম্বর: তালিকা দেখে আপত্তি জানানোর শেষ সুযোগ।
১৭ নভেম্বর: গ্রাম সভায় নাম অনুমোদনের শেষ তারিখ।
৩০ নভেম্বর: রাজ্যের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। এই নতুন পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষ আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং প্রকল্পের কাজ আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।