মেসি কাণ্ডে বড় বিপাকে অরূপ বিশ্বাস! ২২ হাজার টিকিট হাতিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ?

মেসি ইভেন্টকে ঘিরে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, তার তদন্তে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে আজ সকাল ৯টা ৫৬ মিনিট নাগাদ বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। কালো কাচের গাড়িতে চেপে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে থানায় পৌঁছান তিনি। অরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তদন্তকারী দলের সদস্যরা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত ছিলেন। পুলিশের কড়া অবস্থানের প্রেক্ষিতেই অবশেষে তিনি হাজিরা দিতে বাধ্য হন।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে, ইভেন্ট উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে প্রাক্তন মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শতদ্রুর অভিযোগ অনুযায়ী, অরূপ বিশ্বাস তাঁর পদের অপব্যবহার করে ইভেন্ট উদ্যোক্তাকে ভয় দেখিয়ে প্রায় ২২ হাজার টিকিট হাতিয়ে নিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে, এই বিশাল সংখ্যক টিকিট পরবর্তীকালে কালোবাজারি করা হয়েছে। উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের দাবি, টিকিট না দিলে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকিও দিয়েছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী। পাশাপাশি, শতদ্রু আলাদা করে বেশ কিছু ‘কমপ্লিমেন্টারি’ টিকিটও নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
তবে তদন্তের পরিধি এখানেই শেষ নয়। মাঠের ভেতরে বিশৃঙ্খলা এবং অব্যবস্থাপনার বিষয়েও প্রাক্তন মন্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে পুলিশ। নিয়ম অনুযায়ী মাঠের ভেতরে মাত্র তিনজন ফটোগ্রাফার থাকার কথা থাকলেও, বাস্তবে দেখা গিয়েছিল নিরাপত্তারক্ষী ও ঘনিষ্ঠদের মিলিয়ে প্রায় ৪০ জন লোক মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, এই ৪০ জন ফটোগ্রাফারের তালিকায় অরূপ বিশ্বাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম রয়েছে।
সূত্রের খবর, অরূপ বিশ্বাস শুধুমাত্র নিজের এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে মেসির ছবি তোলার উদ্দেশ্যেই এই পুরো কারসাজি করেছিলেন। এমনকী, কিছু ফটোগ্রাফার ছবি তুলে সরাসরি অরূপ বিশ্বাসের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মাঠে পৌঁছানোর আগেই যাতে মেসির সঙ্গে তাঁর ছবি তোলা সম্ভব হয়, তার জন্যই এই ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করছে তদন্তকারী দল। এছাড়া, মাঠের ভেতর জলের বোতল নিয়ে যাওয়া এবং ইভেন্টের ডেকোরেটরের টেন্ডার থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আজকের এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।