২০২৫-এর ডিসেম্বরে কলকাতায় লিওনেল মেসির সফর ঘিরে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে কীভাবে বিশ্বজয়ী ফুটবলারকে হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে এবার ‘মেসি-কাণ্ডের’ পুরনো ফাইল তলব করেছে বর্তমান সরকার।
তদন্তের মুখে প্রাক্তন মন্ত্রী ও পুলিশ আধিকারিকরা? সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশীথ প্রামাণিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, “মেসিকে ঘিরে ওই দিনের ঘটনাটি ছিল এক চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। আমি ইতিমধ্যেই সেই সংক্রান্ত সমস্ত ফাইল তলব করেছি। ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত হবে। ঠিক কোথায় ভুল ছিল এবং কারা এর জন্য দায়ী, তা চিহ্নিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” উল্লেখ্য, ওই অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি এড়িয়ে ভিআইপি গ্যালারি থেকে অসংখ্য প্রভাবশালী ব্যক্তি মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন, যা নিয়ে খোদ আর্জেন্টাইন শিবিরও উষ্মা প্রকাশ করেছিল।
বলির পাঁঠা হয়েছিলেন শতদ্রু? মেসি সফরের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্তকে সে সময় গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সম্প্রতি তিনি বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে, প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা ঢাকতেই তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ করা হয়েছিল। শতদ্রুর অভিযোগ, “প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর পরিচিত প্রচুর প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং পুলিশ আধিকারিকরা অনধিকার প্রবেশ করেছিলেন। মেসির সতীর্থ রদ্রিগো দে পলের গায়েও আঁচড় লেগেছিল। আমি পুলিশ কমিশনার ও ডিজি-কে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি।” শতদ্রু আরও জানান, কলকাতা ছাড়ার সময় বিমানের ভেতর থেকে তাঁকে যখন গ্রেফতার করা হয়, তখন খোদ লিওনেল মেসিও সেই ঘটনায় আপত্তি জানিয়েছিলেন।
কেন কেন্দ্রের সঙ্গে দূরত্ব রেখেছিল গত সরকার? তদন্তের পাশাপাশি রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়েও সরব হয়েছেন নিশীথ। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকার ‘খেলো ইন্ডিয়া’-সহ কেন্দ্রের একাধিক জনহিতকর ক্রীড়া প্রকল্প বাংলায় বাস্তবায়ন করতে দেয়নি। নিশীথের দাবি, “প্রতিটি কেন্দ্রীয় ইভেন্টকে কোনও না কোনও অজুহাতে আটকে দেওয়া হয়েছে। এবার সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনা হবে।”
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই গত সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। এবার খোদ মেসির সফরের বিশৃঙ্খলা নিয়ে তদন্তের নির্দেশে তৃণমূলের প্রাক্তন হেভিওয়েট মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং সুজিত বসুর অস্বস্তি যে আরও বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।





