মেসিদের তীব্র সমালোচনা করলেই বিপদ! বিদেশিদের বিরুদ্ধে কড়া অভিবাসন আইন আনলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট

চলতি ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় থামার নামই নিচ্ছে না। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় লিওনেল মেসিদের বিরুদ্ধে চলা লাগাতার সমালোচনার জেরে এবার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করল আর্জেন্টিনা সরকার। দেশের সম্মান এবং জাতীয় প্রতীক রক্ষার্থে অভিবাসন সংক্রান্ত একটি নতুন জরুরি ডিক্রি জারি করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হেভিয়ের মিলেই।

অভিবাসন আইনে কড়া পরিবর্তন, বড় ঘোষণা প্রেসিডেন্টের

চলতি বিশ্বকাপ ফুটবল, বিশেষ করে ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে মেসি ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অনেকর মতেই ফিফার কাছ থেকে দলটিকে অন্যায্যভাবে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত কটূক্তি ও বৈরিতার কঠোর জবাব দিতেই প্রেসিডেন্ট হেভিয়ের মিলেই অভিবাসন আইন বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, “সম্প্রতি আর্জেন্টিনা প্রজাতন্ত্র ও আর্জেন্টাইনদের বিরুদ্ধে যে বৈরিতার প্রকাশ ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সরকার আবারও স্পষ্ট করে জানাচ্ছে যে, দেশ, দেশের নাগরিক এবং জাতীয় প্রতীক রক্ষা করার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। যে-ই আর্জেন্টিনা প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, তাকে আমাদের দেশে স্বাগত জানানো হবে না।”

কড়া শাস্তির মুখে পড়বেন সমালোচকরা

নতুন এই ডিক্রি অনুযায়ী, যদি কোনো বিদেশি নাগরিক মৌখিক বা লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে আর্জেন্টাইনদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ান কিংবা জাতীয় প্রতীকের অবমাননা করেন, তবে প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। অভিযুক্তদের দেশে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, ভিসা বাতিল কিংবা সরাসরি দেশ থেকে বহিষ্কার করার একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকবে কর্তৃপক্ষের হাতে।

বিশ্বকাপ চলাকালীন এবং তার পরবর্তীতে ব্রাজিলের সঙ্গেও আর্জেন্টিনার কূটনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই নতুন অভিবাসন নীতি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আর্জেন্টিনার কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে সমস্ত কূটনৈতিক জল্পনাকে পাশ কাটিয়ে দেশের সম্মান ও ফুটবল আইকন লিওনেল মেসিদের সুরক্ষা দিতেই অনড় রয়েছে মিলেই প্রশাসন।