কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির সফর ঘিরে যে অনভিপ্রেত বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেই ‘মেসিকান্ড’ নিয়ে এবার অরূপ বিশ্বাসের ওপর কড়া নজরদারি ও কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুলিশের তলব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
বিচারপতি এদিন শুনানিতে প্রশ্ন তোলেন, “পুলিশ দেখা করতে ডাকছে, যাচ্ছেন না কেন? কবে যাবেন?” অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবীর পাল্টা দাবি ছিল, আদালত যদি ‘রক্ষাকবচ’ দেয়, তবেই তিনি হাজিরা দেবেন। কিন্তু বিচারপতি সরাসরি সেই আর্জি খারিজ করে দিয়ে নির্দেশ দেন যে, ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিশ দিয়ে অরূপ বিশ্বাসকে তলব করতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্ত চলবে তদন্তের গতিতেই। যদিও পুলিশ আপাতত গ্রেফতারির মতো কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না, তবে হাইকোর্টের অনুমতি ছাড়া অরূপ বিশ্বাস রাজ্য ছাড়তে পারবেন না। পাশাপাশি, তাঁর পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
এদিন শুনানিতে মেসিকান্ড নিয়ে চরম অস্বস্তির কথা প্রকাশ পায় বিচারপতির মন্তব্যে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য আক্ষেপ করে বলেন, “মেসিকান্ডে আমরা অত্যন্ত লজ্জিত। এর ফলে গোটা দেশে রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিশ্বের অনেক জায়গায় মেসি গিয়েছেন, কিন্তু কোথাও তো এমন বিশৃঙ্খলা হয়নি!” অরূপ বিশ্বাস যেভাবে মেসির নিরাপত্তা বলয় ভেঙে তাঁর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়ে জড়িয়ে ধরেছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আদালত। বিচারপতি সরাসরি কটাক্ষ করেন, “মেসি কি অরূপ বিশ্বাসের বাল্যবন্ধু?” আদালতের মতে, এই ঘটনায় বিশ্ববিখ্যাত ফুটবলারের নিরাপত্তা চরম বিঘ্নিত হয়েছে।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই সংক্রান্ত তদন্ত রিপোর্ট কলকাতা হাইকোর্টে জমা দিতে হবে। উল্লেখ্য, যুবভারতীর অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার জেরে তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। গত ৮ তারিখ দ্বিতীয়বার হাজিরা এড়ানোর পর অরূপ বিশ্বাসের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। যদিও তিনি রক্ষাকবচের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টে গিয়েছিলেন, তবে আদালত তদন্তে কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি। উল্টো, তদন্তের স্বার্থে তাঁকে আইন মেনে সহযোগিতার বার্তা স্পষ্ট করে দিল আদালত।





