মেয়াদ শেষের আগেই নাটকীয় সিদ্ধান্ত! টাটা সন্স ছাড়ছেন এন চন্দ্রশেখরন, নেপথ্যে কোন রহস্য?

টাটা গোষ্ঠীতে ফের শুরু হয়েছে তীব্র টালমাটাল পরিস্থিতি। টাটা সন্সের শীর্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এন চন্দ্রশেখরন। বর্তমান কার্যকালের মেয়াদ তিনি পূর্ণ করবেন ঠিকই, তবে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর পুনরায় নিযুক্ত হতে চান না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। আগামী ১৮ অগাস্ট টাটা সন্সের গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক সাধারণ সভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক তার আগেই চন্দ্রশেখরনের এই পদত্যাগের ঘোষণায় গোটা করপোরেট মহলে ব্যাপক শোরগোল ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

গত বেশ কিছুদিন ধরেই টাটা সন্সে এন চন্দ্রশেখরনের কার্যকালের মেয়াদ নিয়ে নানা টানাপোড়েন ও জল্পনা চলছিল। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব নবীকরণের জন্য মূলত দুটি প্রধান শর্ত সামনে রাখা হয়েছিল। সেই প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, প্রথমত, টাটা সন্সকে অবশ্যই তালিকাভুক্ত নয় এমন অর্থাৎ আনলিস্টেড সংস্থা হিসেবেই নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, হোল্ডিং কোম্পানিতে এসপি গ্রুপের যে অংশীদারিত্ব রয়েছে, তার লিক্যুইডিটি বা নগদ রূপান্তরের জন্য একটি স্থায়ী সুরাহা বের করতে হবে।

কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চুক্তি নবীকরণের সেই প্রক্রিয়া আর সেভাবে এগোয়নি। বরং সেই পথ থেকে সরে এসে এয়ার ইন্ডিয়া, টাটা ডিজিটাল-সহ টাটা গ্রুপের অন্যান্য পাঁচটি সংস্থাকে নতুন করে ঘুরিয়ে দাঁড় করানোর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সেই সময় থেকেই বিশেষজ্ঞ মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল যে চন্দ্রশেখরন যে কোনো মুহূর্তে পদত্যাগ করতে পারেন। কারণ পরিচালক বা ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর পুনর্নিয়োগের সপক্ষে বোর্ডের অন্দরে প্রয়োজনীয় সমর্থন ও ঐকমত্য ছিল না বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।

উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত কার্যকালের মেয়াদ রয়েছে এন চন্দ্রশেখরনের। এর পরেও তিনি কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন কি না, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছিল তাঁর পুনর্নিযুক্তির ওপর। কিন্তু নিজের পদত্যাগপত্রে তিনি নিজেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি আর কোনোভাবেই নতুন করে নিযুক্তি চান না। অর্থাৎ, বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবেই টাটা গোষ্ঠী থেকে চিরতরে বিদায় নিচ্ছেন তিনি। এর ফলে টাটার মতো দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে ফের এক গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।