মেট্রোর কাজে বড় বাধা ময়দানের বাজার! স্থায়ী স্বীকৃতির দাবিতে অনড় ব্যবসায়ীরা

কলকাতা মেট্রোর ‘পার্পল লাইন’ প্রকল্পের সাফল্যের চাবিকাঠি হলো এসপ্ল্যানেড স্টেশন। জোকা থেকে শহরের প্রাণকেন্দ্র পর্যন্ত সরাসরি সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ড. বিধানচন্দ্র রায় মার্কেটের ৫২৮টি দোকানের দখলস্বত্ব নিয়ে ওঠা জটিলতায় বছরের পর বছর ধরে ঝুলে রয়েছে প্রকল্পের নির্মাণকাজ।

কেন এই অচলাবস্থা? রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL) জানিয়েছে, ২০২৩ সালেই এসপ্ল্যানেড স্টেশনের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। অথচ জমি জট ও বাজারের আইনি অবস্থানের কারণে এখনও নির্মাণকাজ শুরু করাই সম্ভব হয়নি। স্টেশন নির্মাণের জন্য বর্তমানে ময়দানে অবস্থিত বাজারটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। রেল কর্তৃপক্ষ মনোহর দাস তড়াগের উত্তরে একটি অস্থায়ী বাজার তৈরি করলেও, ব্যবসায়ীরা সেখানে স্থানান্তরে নারাজ।

ব্যবসায়ীদের দাবি ও আশঙ্কা ড. বিসি রায় মার্কেট স্টল হোল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের স্পষ্ট দাবি, লিখিত আইনি নিশ্চয়তা ছাড়া তাঁরা বর্তমান বাজার ছাড়বেন না। তাঁদের অভিযোগ:

  • বর্তমান ব্যবসায়ীদের নামে মালিকানার সরকারি নথি তৈরি করতে হবে।

  • অস্থায়ী বাজারের পরিকাঠামো অপর্যাপ্ত (প্রবেশপথ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমস্যা)।

  • লিখিত স্বীকৃতি ছাড়া দোকান খালি করলে ভবিষ্যতে অধিকার হারানো হতে পারে বলে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা।

আইনি জটিলতার সমীকরণ এই জমিটি মূলত ভারতীয় সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন এবং এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে রাজ্যের পূর্ত দফতর (PWD)। সেনাবাহিনী ময়দান এলাকাকে ‘ব্লু জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করায় সেখানে কোনো স্থায়ী নির্মাণকে আইনি বৈধতা দিতে রাজি নয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক মেট্রো প্রকল্পের জন্য ছাড়পত্র দিলেও, বর্তমান দখলদারদের আইনি স্বীকৃতির ক্ষেত্রে অনড় অবস্থানে রয়েছে। রাজ্যের দাবি, তাঁরা বর্তমান দোকানের নম্বর অনুযায়ীই ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, কিন্তু তাতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ও আশার আলো বর্তমানে জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু রয়েছে। এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত কাজ শেষ হলে ব্লু লাইন (নর্থ-সাউথ) এবং গ্রিন লাইনের (ইস্ট-ওয়েস্ট) সঙ্গে এই করিডোরের সংযোগ তৈরি হবে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজের সময়সীমা অন্তত চার বছর পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে, রেল কর্তৃপক্ষের একাংশ আশা প্রকাশ করেছে যে, কেন্দ্র ও রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার হয়তো এই দীর্ঘদিনের জট দ্রুত কাটানো সম্ভব হবে।