বারুইপুর কাণ্ডে নড়ল প্রশাসন! মুখ্যমন্ত্রীর সফরের ঠিক আগে কী বার্তা দিলেন লকেট-অগ্নিমিত্রারা?

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তাপ। ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে মঙ্গলবার দুপুরে বারুইপুর সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার সফরের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে পৌঁছাল বিজেপির এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
এদিন সকালেই বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছান। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তাঁরা। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হন বিজেপি নেতৃত্ব।
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা চাই এই জঘন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকেই উপযুক্ত শাস্তি পাক। নির্যাতিতার পরিবার সরকারের ভূমিকায় যে সন্তুষ্ট নয়, তা আমাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।” অন্যদিকে, অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, “নির্যাতিতার পরিবারকে সবরকম সাহস জোগাতেই আমরা এখানে এসেছি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা সরকারের তৎপরতাকেই প্রমাণ করে। গোটা গ্রাম এখন সরকারের ওপর আস্থা রাখছে।”
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে ২টো নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুর জেলা পুলিশ কার্যালয়ে পৌঁছাবেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। সেখানে আইজি-র নেতৃত্বে তদন্তকারী দল, জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক এবং স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট)-এর সদস্যদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী একটি জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন। তদন্তের বর্তমান অবস্থা, চার্জশিট দ্রুত জমা দেওয়া এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে জানা গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী নির্যাতিতার পরিবারকে সবরকম সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আর্থিক সাহায্য, পরিবারের নিরাপত্তা এবং আইনি লড়াইয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, নিখোঁজ ডায়েরি হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ যদি কোনো গাফিলতি করে থাকে, তবে সেই দায়ভার সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদেরই নিতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষীদের দ্রুত বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক কর্মসূচি সরিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকেই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রশাসন, যা বারুইপুরের ঘটনায় ন্যায়বিচারের পথে বড় ধাপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।