মৃত্যুমিছিল ১৭-এ! তারাতলা গুদাম ধসে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নাম জড়াতেই উত্তাল শহর

তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শ্রমিকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে। তবে কেবল উদ্ধারকাজ নয়, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তদন্তে এল এক অভাবনীয় মোড়। এই বিপর্যয়ের দায়ভার চাপিয়ে খোদ কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে তারাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ফিরহাদ হাকিম ছাড়াও এই অভিযোগে আনোয়ার খান এবং শামস ইকবালের নাম রয়েছে।

‘ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের’ পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাদের মূল দাবি চারটি। প্রথমত, অবিলম্বে এফআইআর নথিভুক্ত করে ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করতে হবে। দ্বিতীয়ত, এই অবৈধ নির্মাণের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। তৃতীয়ত, অভিযোগে উল্লিখিত ফিরহাদ হাকিম, আনোয়ার খান ও শামস ইকবালকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। এবং চতুর্থত, ওই এলাকায় থাকা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ও বেআইনি নির্মাণগুলি দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

গত ২৪ জুন তারাতলায় এই ভয়াবহ গুদাম ধসের ঘটনা ঘটে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন বহু শ্রমিক। দমকল, কলকাতা পুলিশ, এনডিআরএফ এবং ভারতীয় সেনার দীর্ঘ প্রচেষ্টায় উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়। ১৭ জন শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনায় শহরের নিরাপত্তা পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন উঠেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তৎকালীন মেয়রের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু প্রাক্তন মেয়রের নামে সরাসরি অভিযোগ দায়ের হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

অভিযোগকারীর দাবি, যে জমিতে গুদামটি তৈরি হচ্ছিল, সেটি কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের অধীনস্থ। এত বড় একটি নির্মাণের অনুমোদনের বিষয়টি রহস্যের ঘেরাটোপে। অভিযোগের বয়ানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কলকাতা পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র হিসেবে শহরের যেকোনো নির্মাণকার্যের উপর নজরদারি করার প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা ছিল ফিরহাদ হাকিমের। তাই এই বিপর্যয়ের দায় তিনি এড়াতে পারেন না। অভিযোগকারীর দাবি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের যে খেসারত শ্রমিকদের দিতে হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে প্রশাসনিক গাফিলতি।

যদিও অভিযোগ দায়ের হওয়ার অর্থই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়, তবুও রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা এক বড়সড় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা অভিযোগের প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে খতিয়ে দেখছেন। নির্মাণ সংস্থা, ঠিকাদার এবং প্রশাসনিক স্তরে কাদের গাফিলতি ছিল, তা খুঁজে বের করাই এখন পুলিশি তদন্তের মূল লক্ষ্য। অভিযুক্তদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তারাতলা কাণ্ডে এই নতুন মোড় আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক স্তরে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে শহরবাসী।