মৃত্যুমিছিলের মাঝেও অলৌকিক! জলে ডুবে গেল হাতির শাবক, ভেসে গেল গন্ডার, বিপর্যয়ে ডুয়ার্সের জঙ্গল মহলের চরম সতর্কতা।

টানা প্রবল বর্ষণ ও বন্যায় উত্তরবঙ্গের জনপদগুলি যেমন বিপর্যস্ত, তেমনই চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে বন্যপ্রাণে ভরা বনাঞ্চলে। জলদাপাড়া, গরুমারা, ডুয়ার্স এবং লাগোয়া জাতীয় উদ্যানগুলির বহু অংশ জলমগ্ন। এর ফলে গন্ডার, হাতি, বাইসন, হরিণ-সহ বহু বন্যপ্রাণীর জীবন বিপন্ন।

জলের স্রোতে ভেসে যাচ্ছে গন্ডার-হরিণ
জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের বহু অংশ ডুবে যাওয়ায় গন্ডার ও হরিণের মতো প্রাণীদের চরম দুর্দশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে:

ভেসে যাওয়া গন্ডার: আলিপুরদুয়ারের তোর্সা নদীতে একটি বিশালাকার গন্ডারকে ভেসে যেতে দেখা যায়। পরে কোচবিহারের একটি নদীতে অন্য একটি গন্ডারকে জলে উঠে আসতে দেখা যায়। দুটি কি একই প্রাণী, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

হরিণ উদ্ধার: জলঢাকা নদীতে ভেসে যাওয়া একটি হরিণকে স্থানীয়রা প্রাণপণ চেষ্টা করে উদ্ধার করে বনকর্মীদের হাতে তুলে দেন।

গরুমারায় গন্ডারের মৃত্যু: ময়নাগুড়ির রামসাই এলাকায় গরুমারা জাতীয় উদ্যানের একটি গন্ডারের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বন দফতর।

হাতির শাবকের মৃত্যু: শিলিগুড়ির কাছে মেচি নদীতে প্রায় ৩০ হাতির দল পার হওয়ার সময় একটি হাতিশাবক দলছুট হয়ে জলে ডুবে যায়।

জলদাপাড়া ও ডুয়ার্সের চা বাগানে উদ্বেগ
শালকুমারহাটের শিশামারা নদীর বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে পড়ায় নেপালিবস্তি, নতুনপাড়া ও জলদাপাড়া বাজার এলাকায় বহু মানুষ ও গবাদিপশু জলবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এদিকে, ডুয়ার্সের চা বাগানগুলিতেও বন্যপ্রাণীদের জীবন বিপন্ন। মালবাজারের ঘীস নদীর জল বাড়ায় ওদলাবাড়ি-মানাবাড়ি চা বাগান এলাকায় প্রায় এক ডজন বুনো হাতি (যার মধ্যে শাবকও ছিল) আটকে পড়েছিল। যদিও পরে জল নামলে হাতির দলটি জঙ্গলে ফিরে যায়।

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও পারভীন কাশোয়ান জানিয়েছেন, একটি গন্ডারকে নদীতে ভাসতে দেখা গেলেও, পরে সেটি নিজে থেকেই ওপরে উঠে আসে। তবে এই দুর্যোগে বন্যপ্রাণীদের ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা জল নামলেই বোঝা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।